জাপানে সহজলভ্য একটি পরিপূরক খাদ্য এমন এক ধরনের হৃদরোগের বিরুদ্ধে আশার আলো দেখাচ্ছে, যা সাধারণ চিকিৎসায় অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই পরিপূরক খাদ্য হৃদ্যন্ত্রের রক্তনালিতে জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করবে। সাধারণত করোনারি আর্টারি অসুস্থতায় রক্তনালির ভিতরে কোলেস্টেরল জমে ধীরে ধীরে পথ সরু হয়ে যায়। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু জাপানের গবেষকেরা বহু বছর ধরে হৃদরোগের এক আলাদা ধরন নিয়ে কাজ করছেন, যার নাম ‘ট্রাইগ্লিসারাইড ডিপোজিট কার্ডিও-মায়ো-ভাসকুলোপ্যাথি’ (টিজিসিভি)। এই রোগে সমস্যা তৈরি হয় কোলেস্টেরল জমে নয়, কোষের ভিতরে ট্রাইগ্লিসারাইড জমে যাওয়ার কারণে। গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী কেন-ইচি হিরানো জানিয়েছেন, শরীরের কোষ ঠিকমতো চর্বি ভাঙতে না পারলে সেই চর্বি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির দেওয়ালে জমতে শুরু করে। ফলে অনেক রোগী প্রচলিত ওষুধে সাড়া দেন না। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন ‘ট্রাইক্যাপ্রিন’ নামে একটি পরিপূরক খাদ্য। এটি জাপানে সহজলভ্য এবং কোষের ভিতরে চর্বি ভাঙার প্রক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে অনুমিত। গবেষণায় দুই জন ষাটোর্ধ্ব ডায়াবেটিস রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাঁদের বুকে তীব্র ব্যথা ছিল এবং সাধারণ চিকিৎসাতে অবস্থার খুব একটা উন্নতি হচ্ছিল না। পরে তাঁদের টিজিসিভি ধরা পড়ে। নিয়মিত ট্রাইক্যাপ্রিন নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের উপসর্গ কমতে শুরু করে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, পরবর্তী স্ক্যানে দেখা যায় রক্তনালির ভিতরে জমে থাকা ট্রাইগ্লিসারাইডও কমেছে এবং আগের তুলনায় রক্তনালির পথ কিছুটা চওড়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় একেবারে নতুন ধরনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই উন্নতি ঘটেছে রক্তের সাধারণ কোলেস্টেরল মাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন ছাড়াই। অর্থাৎ, সাপ্লিমেন্টটি হয়তো শরীরের ভেতরে অন্য কোনো জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করছে। সুতরাং ভবিষ্যতে হৃদরোগের চিকিৎসা শুধু রক্তের কোলেস্টেরল কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং হৃদ্যন্ত্রের কোষের ভিতরে কীভাবে চর্বি জমছে ও ভাঙছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সূত্র: Remarkable regression of diffuse coronary atherosclerosis in patients with triglyceride deposit cardiomyovasculopathy” by Ken-ichi Hirano, Masahiro Higashi and Kenichi Nakajima, 30 December 2022, European Heart Journal. SciTechDaily ; May ; 2026
