পালং শাকের ভেতরে থাকা সালোকসংশ্লেষ ঘটানোর ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ এবার প্রাণীর শরীরেও কাজ করতে পারে। এমনই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পালং শাক থেকে সংগ্রহ করা বিশেষ কোষ উপাদান ইঁদুরের চোখে প্রতিস্থাপন করার পর তা আলো থেকে শক্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এবং চোখের প্রদাহও কমিয়েছে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ডেভিড তাই লিয়ং বলেন, “গাছপালার মধ্যে কোটি কোটি বছরে যে প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে, আমরা সেটাকেই প্রাণীর শরীরে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি।” গবেষকদের অনুপ্রেরণা ছিল সমুদ্রের কিছু ‘সি স্লাগ’। এরা শৈবাল থেকে সালোকসংশ্লেষের উপাদান নিজের শরীরে নিয়ে ব্যবহার করতে পারে। সেই ধারণা থেকেই বিজ্ঞানীরা ভাবেন, স্তন্যপায়ী প্রাণীর কোষেও কি একই কাজ সম্ভব? পরীক্ষার জন্য গবেষক কুয়োরান জিং স্থানীয় বাজার থেকে পালং শাক, লেটুসসহ বিভিন্ন শাকসবজি কেনেন। পরে সেগুলি থেকে ক্লোরোপ্লাস্ট আলাদা করা হয়। ক্লোরোপ্লাস্টই হল উদ্ভিদের সেই অংশ, যা সূর্যের আলোকে শক্তিতে রূপান্তর করে। দেখা যাচ্ছে, পালং শাক থেকেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর উপাদান পাওয়া যায়। সেই উপাদানকে ন্যানো-কণার মধ্যে ভরে তৈরি করা হয় বিশেষ কণা, যার নাম দেওয়া হয়েছে “LEAFs”। ল্যাবরেটরিতে স্তন্যপায়ী প্রাণীর কোষের মধ্যে এই LEAFs প্রবেশ করানোর পর দেখা যায়, তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে আলো থেকে রাসায়নিক শক্তি তৈরি করতে পারছে। বিশেষ করে ATP এবং NADPH নামের শক্তিবাহী অণু। এরপর বিজ্ঞানীরা শুকনো চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চালান। দেখা যায়, LEAFs-যুক্ত আই ড্রপ চোখের ক্ষতিকর ‘রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস’ কমিয়ে প্রদাহ হ্রাস করছে। আশ্চর্যের বিষয়, এ জন্য অতিরিক্ত আলোও ব্যবহার করতে হয়নি। সাধারণ আলোতেই এই প্রক্রিয়া চলেছে। খুব অল্প পরিমাণ পালং শাক থেকেই বহু মানুষের চিকিৎসার উপযোগী উপাদান তৈরি করা সম্ভব। এখন মানুষের উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে শুধু চোখ নয়, শরীরের অন্য টিস্যুতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তবু গবেষকদের দাবি, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক সম্পূর্ণ নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
সূত্র: doi: https //doi.org/10.1038/d41586-026-01559-9
