২০১০ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের নীচে পৃথিবীর বাইরের কেন্দ্রে গলিত লোহার প্রবাহ হঠাৎ দিক বদলেছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-র উপগ্রহ ও স্থলভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। পৃথিবীর বাইরের কেন্দ্রে থাকা অত্যন্ত গরম তরল লোহার চলাচল থেকেই পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। এতদিন বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, গলে যাওয়া লোহার প্রবাহ মূলত পশ্চিম দিকে চলে। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবীয় অঞ্চলের নীচে থাকা একটি বড় অংশ ২০১০ সালে পশ্চিমমুখী প্রবাহ থেকে হঠাৎ শক্তিশালী পূর্বমুখী প্রবাহে বদলে যায়। গবেষকরা ১৯৯৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ESA-র সোয়ার্ম ও ক্রাইটস্যাট স্যাটেলাইট, জার্মানির CHAMP মিশন এবং ডেনমার্কের অরস্টেড স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এই তথ্যের মাধ্যমে পৃথিবীর বাইরের কেন্দ্রের প্রবাহের পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই পরিবর্তনের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর কঠিন অভ্যন্তরীণ কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া কিছু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এখন তারা খতিয়ে দেখছেন, এটি কোনো সাময়িক ঘটনা, কোনো নিয়মিত চক্রের অংশ, নাকি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন। ২০২০ সালের পর থেকে এই পূর্বমুখী প্রবাহ কিছুটা দুর্বল হয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরের স্বাভাবিক ওঠানামার অংশ হতে পারে। এই ঘটনা পৃথিবীর জীবজগতের জন্য কোনো বিপদ নয়। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয় বাইরের কেন্দ্র থেকেই, যা ক্ষতিকর সৌর বিকিরণ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। এছাড়া চলাচল ব্যবস্থা, উপগ্রহ পরিচালনা ও মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ESA-র বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার পৃথিবীর বাইরের কেন্দ্রকে স্থিতিশীল পশ্চিমমুখী প্রবাহ হিসেবে দেখার পুরনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পৃথিবীর অভ্যন্তর আগের যা জানা ছিল তার তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল ও জটিল।
Source: European Space Agency (ESA) Principal Component Analysis of the 2010 Reversal of Core-Surface Flow Beneath the Pacific Ocean, Journal of Studies of Earth’s Deep Interior (2026).
