টি-রেক্সকে পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি বলা হয়। বিশাল শরীর, ধারালো দাঁত আর শক্তিশালী চোয়াল সব মিলিয়ে সে ছিল আতঙ্কের আরেক নাম। কিন্তু এত শক্তিশালী প্রাণীর অস্বাভাবিক ছোট হাত নিয়ে বহুদিন ধরেই কৌতূহল ছিল বিজ্ঞানীদের। বড় শরীরের তুলনায় টি-রেক্সের সামনের হাত ছিল অবিশ্বাস্য রকম ছোট। সম্প্রতি ‘প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা সেই রহস্যের নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। গবেষকদের মতে, টি-রেক্স এবং তার মতো আরও কিছু মাংসাশী ডাইনোসরের ছোট হাত আসলে তাদের বিশাল ও শক্তিশালী মাথার সঙ্গে সম্পর্কিত। টি-রেক্স হল থেরোপড শ্রেণির ডাইনোসর। এই গোষ্ঠীর বেশিরভাগ সদস্যই ছিল মাংসাশী। তাদের হাড় ছিল ফাঁপা এবং পায়ে থাকত তিনটি করে আঙুল। জুরাসিক ও ক্রিটেশিয়াস যুগে থেরোপডদের মধ্যে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। অনেক প্রজাতির শরীর আরও বড় হতে থাকে, মাথা হয় বিশাল ও শক্তিশালী, আর একই সঙ্গে সামনের হাত ছোট হতে শুরু করে। এই পরিবর্তনের কারণ জানতে তাঁরা ৮২টি থেরোপড প্রজাতির তথ্য বিশ্লেষণ করেন। সেখানে দেখা যায়, অন্তত পাঁচটি আলাদা গোষ্ঠীতে হাত ছোট হওয়ার প্রবণতা ছিল। গবেষণায় আরও জানা যায়, ডাইনোসরদের মাথার গঠন যত বেশি শক্তিশালী হয়েছে, তাদের হাত তত ছোট হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু শরীর বড় হওয়ার কারণে নয়, বরং মাথা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণেই হাতের গুরুত্ব কমে যায়। প্রধান গবেষক চার্লি রজার শেরারের কথায়, “ডাইনোসরদের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র ধীরে ধীরে হাত থেকে মাথায় চলে যায়। শক্তিশালী চোয়াল ও বড় মাথাই হয়ে ওঠে শিকারের মূল উপায়। ফলে হাতের প্রয়োজন কমতে থাকে এবং কালে তা ছোট হয়ে যায়।” এর আগে কিছু গবেষণায় বলা হয়েছিল, শরীরের বিভিন্ন অংশ সমান হারে না বাড়ার কারণেই হয়।
