নাসা মহাকাশ গবেষণায় নতুন অগ্রগতি আনতে তৈরি করেছে অত্যাধুনিক HPSC প্রসেসর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ এই ছোট চিপটিকে নিয়ে বর্তমানে জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে জোরকদমে পরীক্ষা চলছে। মাইক্রোচিপ টেকনোলজি ইনকরপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এই হাতের তালুর সমান আকারের সমন্বিত কম্পিউটার চিপটি গভীর মহাকাশের কঠিন পরিবেশ সহ্য করতে সক্ষম। এটিকে তীব্র মহাজাগতিক রশ্মি, চরম তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং শক্তিশালী যান্ত্রিক ধাক্কা মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এটি বর্তমানে ব্যবহৃত বিকিরণ-সহনশীল মহাকাশ প্রসেসরের তুলনায় প্রায় ৫০০ গুণ বেশি কম্পিউটিং ক্ষমতা দিতে পারে। ফলে মহাকাশযান সরাসরি মহাকাশেই জটিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম চালাতে পারবে, পৃথিবী থেকে নির্দেশের জন্য অপেক্ষা না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মহাকাশযানকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপদ এড়িয়ে চলা, বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বাছাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্যই শুধু পৃথিবীতে পাঠাতে সহায়তা করবে। চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানে মানুষ পাঠানো, আরও স্মার্ট রোভার তৈরি করা এবং সৌরজগত জুড়ে দ্রুত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মতো বড় লক্ষ্য পূরণেও এই প্রযুক্তির ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ । স্থানীয়ভাবে বিপুল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি যোগাযোগ ব্যান্ডউইথের ওপর চাপ কমাবে এবং গবেষণার গতি বাড়াবে। পরীক্ষা সফল হলে এই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিরক্ষা, বিমান ও গাড়ি শিল্পেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বুদ্ধিমান ও স্বনির্ভর রোবট মহাকাশযানের যুগের দিকে এক বড় পদক্ষেপ।
সূত্র: Science Acumen; May ; 2026
