কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: রাষ্ট্রসঙ্ঘের চেতাবনী

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: রাষ্ট্রসঙ্ঘের চেতাবনী

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৩ জুন, ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ প্রযুক্তির সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্রগুলোর একটি। চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবসা এবং যোগাযোগসহ বহু ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির এত দ্রুত বিস্তারের বিশাল পরিবেশগত খরচ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ।

২০২৬ সালের ৩ জুন প্রকাশিত ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথ -এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃ বু পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ, জল এবং ভূমির চাহিদা পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কৃ বু অবকাঠামোর বিদ্যুৎ ব্যবহার বছরে প্রায় ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়ার সম্মিলিত বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় তিন গুণ। এত বিপুল শক্তি ব্যবহারের ফলে শত শত মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হতে পারে, যা অনেক দেশের মোট বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সমতুল্য। এর আরেকটি বড় পরিবেশগত মূল্য হলো জলের ব্যবহার। শক্তিশালী সার্ভার ও প্রসেসরগুলোকে ঠান্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ জল প্রয়োজন হয়। গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে AI ডেটা সেন্টারগুলোর শীতলীকরণের জন্য বছরে প্রায় ৯.৩ ট্রিলিয়ন লিটার জল লাগতে পারে। এই পরিমাণ জল প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের এক বছরের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে ইতিমধ্যেই জল সংকটে থাকা অনেক অঞ্চলে এই অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জল ছাড়া, অবকাঠামোর জন্য বড়ো মাপের ভূমিও প্রয়োজন। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ জমি ব্যবহার করতে হবে, যা প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নাশের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে পরিবেশগত চাপ কেবল কৃ বু মডেল প্রশিক্ষণের সময়ই তৈরি হয় না; প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের সাধারণ প্রশ্ন, অনুসন্ধান এবং AI ব্যবহারের ফলেও বিপুল শক্তি ব্যয় হয়। বিশেষ করে আমেরিকা, চিন এবং ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎ গ্রিড ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর স্থানীয় স্তরে চাপ দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রসঙ্ঘ কৃ বু কোম্পানিগুলোর কাছে আরও স্বচ্ছতা, কঠোর দক্ষতা মান, পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হল— কৃবু মানবজাতির জন্য বিরাট সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এর পরিবেশগত মূল্য জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবেশগত দায়বদ্ধতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

 

সূত্র: The Conversation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 4 =