প্রোটিন আমাদের শরীরের পেশি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং বিভিন্ন কোষকলা গঠন ও মেরামতের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তবে যেকোনো উৎস থেকেই পাওয়া প্রোটিন কি সমান কার্যকর? সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই বহুল আলোচিত প্রশ্নের নতুন উত্তর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখেছেন, সমপরিমাণ খাবার গ্রহণ করলেও প্রাণীজ উৎসের প্রোটিন শরীরে উদ্ভিজ্জ উৎসের প্রোটিনের তুলনায় অনেক বেশি ‘অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড’ (Essential Amino Acids বা EAA) সরবরাহ করতে পারে। অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড এমন কিছু পুষ্টি উপাদান, যা মানবদেহ নিজে তৈরি করতে পারে না। এগুলো অবশ্যই খাদ্য থেকে সংগ্রহ করতে হয়। পেশি গঠন, কোষকলা মেরামত ও সামগ্রিক শারীরিক সুস্থতার জন্য এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা চার ধরনের প্রোটিনের উৎস পরীক্ষা করেন—চর্বিহীন শূকরের মাংস, ডিম, কালো শিম (ব্ল্যাক বিনস) এবং কাঠবাদাম। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে সমপরিমাণ (২ আউন্স-সমতুল্য) প্রোটিন উৎসসহ একটি নির্ধারিত খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর পাঁচ ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন সময়ে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে দেখা হয়, কোন খাবার শরীরে কতটা EAA পৌঁছে দিতে সক্ষম।
দেখা যায়, প্রাণীজ উৎসের প্রোটিন—বিশেষ করে শূকরের মাংস ও ডিম—উদ্ভিজ্জ উৎসের শিম ও কাঠবাদামের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি EAA রক্তে সরবরাহ করে। অর্থাৎ, একই পরিমাণ খাবার খাওয়া হলেও শরীর প্রাণীজ প্রোটিন থেকে পেশি গঠনের জন্য বেশি কার্যকর পুষ্টি পায়।
গবেষণায় তরুণ ও বয়স্ক—উভয় বয়সের সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বয়সের কারণে EAA শোষণে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। তবে সব ক্ষেত্রেই প্রাণীজ প্রোটিনের কার্যকারিতা বেশি ছিল। এমনকি শূকরের মাংস ডিমের তুলনায়ও বেশি EAA সরবরাহ করেছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফলাফল থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে প্রাণীজ প্রোটিন সবসময়ই স্বাস্থ্যকর বা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন কম উপকারী। কারণ উদ্ভিজ্জ খাবারে রয়েছে প্রচুর ফাইবার/ তন্তু, ভিটামিন, খনিজ এবং নানা ধরনের উপকারী উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া ২০২৫ সালের একটি বৃহৎ পর্যালোচনা গবেষণায় দেখা গেছে, সয়া-ভিত্তিক প্রোটিন অনেক ক্ষেত্রে প্রাণীজ প্রোটিনের কাছাকাছি কার্যকারিতা দেখাতে পারে। পেশির শক্তি বা শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও প্রানীজ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
এই গবেষণার মূল বার্তা হলো, শুধু প্রোটিনের পরিমাণ নয়, এর গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব বয়স্ক মানুষ পেশির ক্ষয় রোধ করতে চান, তাদের জন্য উচ্চমানের প্রোটিন উৎস নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সুস্থ খাদ্যাভ্যাসের জন্য প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ—উভয় ধরনের পুষ্টিকর প্রোটিনের সুষম সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
সূত্র: “Effects of Consuming Ounce-Equivalent Portions of Animal- vs. Plant-Based Protein Foods, as Defined by the Dietary Guidelines for Americans on Essential Amino Acids Bioavailability in Young and Older Adults: Two Cross-Over Randomized Controlled Trials” by Gavin Connolly, Joshua L. Hudson, Robert E. Bergia, Eric M. Davis, Austin S. Hartman, Wenbin Zhu, Chad C. Carroll and Wayne W. Campbell, 25 June 2023, Nutrients.
DOI: 10.3390/nu15132870
