ব্রাজিলের মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যে একটি রেল টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলাকালীন আবিষ্কার হল এক নতুন জীবাশ্ম। নির্মাণশ্রমিকদের খননকাজের মধ্যেই উন্মোচিত হয় কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণশীল এক বিশালাকার ডাইনোসরের হাড়। পরবর্তীতে জীবাশ্মবিদদের বিশদ গবেষণায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি, যার নাম রাখা হয়েছে ডাসোসরাস টোকান্টিনেনসিস।
গবেষকদের মতে, এই ডাইনোসরটি ছিল প্রায় ৬৬ ফুট (২০ মিটার) দীর্ঘ। এই উচ্চতা এ অঞ্চলে আগে আবিষ্কৃত যেকোনো সরোপড ডাইনোসরের তুলনায় অনেক বড়। সরোপডরা দীর্ঘ গলা ও লম্বা লেজবিশিষ্ট তৃণভোজী ডাইনোসর, যাদের মধ্যে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্থলজ প্রাণীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ডাসোসরাসের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলো গারুমবাটাইটান মোরেলেনসিস, যার জীবাশ্ম ২০০০-এর দশকের শুরুতে স্পেনের আইবেরীয় উপদ্বীপে আবিষ্কৃত হয়েছিল। এই মিলের ভিত্তিতে গবেষকরা ধারণা করছেন, ডাসোসরাসের পূর্বপুরুষদের উৎপত্তি বর্তমান স্পেন অঞ্চলে। পরে প্রায় ১২ থেকে ১৪ কোটি বছর আগে, যখন আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা বৃহৎ মহাদেশ গন্ডোয়ানা-র অংশ ছিল, তখন তারা স্থলপথে আফ্রিকা অতিক্রম করে দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছায়।
এই আবিষ্কার নতুন একটি প্রজাতির সন্ধানের পাশাপাশি ডাইনোসরদের বিবর্তন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডাসোসরাসের হাড়ে এমন কিছু পুনর্গঠন বা বোন রিমডেলিং-এর চিহ্ন রয়েছে, যা তাদের অস্বাভাবিক প্রকাণ্ড আকার ধারণে সাহায্য করেছিল। এর ফলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন যে এই ধরনের জৈবিক অভিযোজন অনেক আগেই বিকশিত হয়েছিল।
ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব দ্য সাও ফ্রান্সিসকো ভ্যালির গবেষক এলভার লুইজ জানান, মারানিয়াও অঞ্চলে আগে আরও কয়েকটি ডাইনোসর জীবাশ্ম পাওয়া গেলেও এত বড় কোনো সরোপডের সন্ধান কখনও মেলেনি। উদাহরণস্বরূপ, আগে আবিষ্কৃত আমাজনসরাস মারানিয়েনসিস-এর দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ৩৩ ফুটের কাছাকাছি।
গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে ব্রাজিলের ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি জীবাশ্ম অনুসন্ধানকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। ফলে রাস্তা, খনি বা নির্মাণ প্রকল্পের সময় উন্মুক্ত শিলাস্তর প্রায়শই নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কারের প্রধান উৎস। ব্রাজিলের পরিবেশ ও সংরক্ষণ আইন, যা বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পে জীবাশ্ম পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছে, তা এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে এলাকাটিতে আরও খননকাজ চালানো যায়। তাঁরা আশা করছেন , বেশি এলাকা জুড়ে খনন চালালে সেখান থেকে ডাসোসরাসের আরও জীবাশ্ম উদ্ধার হবে এবং দক্ষিণ আমেরিকায় ডাইনোসরদের বিবর্তন ও বিস্তার সম্পর্কে নতুন তথ্য জানা যাবে।
সূত্র: The Economic Times.
