উত্তরাখণ্ডের জৌনসার-বাওয়ার অঞ্চলে শতাব্দীর পর শতাব্দী খাদ্যসংরক্ষণের ভরসা ছিল ‘কোঠার’ – কাঠের তৈরি বিশেষ ধরনের উঁচু শস্যভাণ্ডার। গম, ধান, বিভিন্ন ধরনের মিলেট ও ডাল সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত এই কাঠামোগুলি পরিবারগুলির খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করত। স্থানীয় মজবুত কাঠ দিয়ে তৈরি কোঠার মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে নির্মাণ করা হত। এর নকশা শস্যকে আর্দ্রতা, পোকামাকড় এবং প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে রক্ষা করার স্বার্থেই। আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী কাঠের কাজের দক্ষতায় এগুলি তৈরি হতো। টিকে থাকত, বহু দশক।
কোঠার শুধু শস্য সংরক্ষণের জায়গা নয়। এটি একটি পরিবারের কৃষিসম্পদ, স্বনির্ভরতা ও জমির সঙ্গে সম্পর্কেরও প্রতীক। একটি সুসংরক্ষিত কোঠার, সচ্ছল ও নিরাপদ পরিবারের পরিচয় বহন করত। কিন্তু আজ হিমালয়ের গ্রামগুলো থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী কাঠামো। উন্নত মানের কাঠের অভাব, কংক্রিটের বাড়ির প্রসার এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে কোঠারের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গেই হারিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় স্থাপত্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যগত জ্ঞান। সুস্থায়ী জীবনযাপনের আধুনিক ধারণা জনপ্রিয় হওয়ার বহু আগেই কোঠার দেখিয়েছিল কীভাবে স্থানীয় উপকরণ ও পরিবেশের উপযোগী নকশা ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর সমাধান তৈরি করা যায়। আজও যে কয়েকটি কোঠার টিকে আছে, সেগুলি হিমালয়ের মানুষের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সংগ্রামী জীবনের সাক্ষ্য বহন করে। গবেষক ও ঐতিহ্য সংরক্ষণবিদদের মতে, এই কাঠামোগুলির নথিভুক্তি ও সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পাহাড়ি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
সূত্র: Down to Earth ; June; 2026
