আয়নায় নিজেকে চিনতে পারল তিমি!

আয়নায় নিজেকে চিনতে পারল তিমি!

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৯ জুলাই, ২০২৬

বেলুগা তিমি শুধু বুদ্ধিমানই নয়, তারা আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বও চিনতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি আত্মসচেতনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যা পৃথিবীর খুব কম প্রাণীর মধ্যেই দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অ্যাকোয়ারিয়ামে থাকা চারটি বেলুগা তিমির উপর গবেষণাটি করা হয়। বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী তিমি নাতাশা এবং তার মেয়ে মারিসকে। জলের নীচে একটি বড় আয়না বসানোর পর প্রথমে তারা প্রতিচ্ছবিকে অন্য একটি তিমি বলেই মনে করছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের আচরণ বদলে যায়। তারা শরীর ঘোরানো, মাথা নাড়ানো ও বুদ্‌বুদ ছাড়ার মতো অস্বাভাবিক ভঙ্গির মাধ্যমে পরীক্ষা করতে থাকে, আয়নার প্রতিচ্ছবিটি তাদের নিজেরই কি না! এরপর তারা আয়না ব্যবহার করে নিজেদের শরীরের এমন সব অংশ দেখতে শুরু করে, যা স্বাভাবিকভাবে দেখা সম্ভব নয়। গবেষণার ‘মার্ক টেস্ট’-এ নাতাশার শরীরে একটি নির্বিষ দাগ দেওয়া হল। সে এবার আয়নার সামনে নিজেকে এমনভাবে দাঁড় করাল, যাতে দাগটি সে স্পষ্টভাবে দেখতে পারে। এটিই যেন আয়নায় নিজেকে শনাক্ত করতে পারার জোরালো প্রমাণ। এর আগে মানুষ ব্যতীত বৃহৎ বনমানুষ, হাতি, ডলফিন, ম্যাগপাই পাখি এবং কয়েকটি মাছের প্রজাতির মধ্যে এ ধরনের সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। নতুন গবেষণায় সেই তালিকাতে এবার যুক্ত হল বেলুগা তিমিও। অত্যন্ত সামাজিক, কণ্ঠস্বরনির্ভর এবং বড় মস্তিষ্কের অধিকারী বেলুগা তিমি আর্কটিকের জটিল পরিবেশে বাস করে। গবেষকদের ধারণা, এই বৈশিষ্ট্যই তাদের উন্নত বোধবুদ্ধি ক্ষমতার ভিত্তি।

 

সূত্র: Mildener et al., PLOS One (2026).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + nine =