মাছের কাঁটা থেকে সাবধান  

মাছের কাঁটা থেকে সাবধান  

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৮ জুলাই, ২০২৬

মাছ খাওয়ার সময় আমরা কখনো কখনো অসাবধানতাবশত কাঁটা গিলে ফেলি।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামান্য অস্বস্তির পর সমস্যা মিটে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, একটি ছোট মাছের কাঁটাও প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি খাদ্যনালি ভেদ করে ঘাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি, স্নায়ু কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত শার্লি ব্যালাস মাছ খাওয়ার সময় গলায় কাঁটা আটকে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টার পর হাইমলিখ পদ্ধতির সাহায্যে কাঁটাটি বের করা সম্ভব হয়। মাছের কাঁটা আটকে যাওয়া শুধু অস্বস্তিকর নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসার বিষয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব দেশে মাছ খাদ্যতালিকার প্রধান অংশ, বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, সেখানে গলায় মাছের কাঁটা আটকে যাওয়ার ঘটনা প্রায় প্রতিনিয়তই দেখা যায়। চীনে এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ক্লিনিকও গড়ে উঠেছে। কারণ, অনেক মাছের শরীরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সরু কাঁটা থাকে, যা পরিষ্কার করার পরও সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

সাধারণত মাছের কাঁটা টনসিল বা খাদ্যনালিতে আটকে যায়। এর ফলে গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, কাশি, গিলতে ব্যথা, খাবার বা লালা গিলতে অসুবিধা এবং কখনও রক্তপাতও হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে লক্ষণ স্পষ্ট হয় না। এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে একজন ব্যক্তি কয়েক মাস ধরে শরীরে মাছের কাঁটা বহন করলেও তা বুঝতে পারেননি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আটকে থাকা কাঁটা ধীরে ধীরে স্থান পরিবর্তন করতে পারে। বারবার গিলতে থাকার ফলে এটি খাদ্যনালির দেয়াল ভেদ করে ঘাড়ের গভীরে পৌঁছে যেতে পারে এবং মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ক্যারোটিড ধমনী, গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু বা থাইরয়েড গ্রন্থিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে সংক্রমণ, ফোঁড়া, সেপসিস এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডে সংক্রমণ ছড়িয়ে পক্ষাঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, কাঁটা আটকে গেলে প্রথমে জোরে কাশবার চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা থেকে গেলে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে। প্রয়োজনে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে নিরাপদে কাঁটা বের করা হয়। ভাত, রুটি বা কলা গিলে কাঁটা নামানো প্রভৃতি প্রচলিত ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; বরং এতে কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। কোনোক্রমে পাকস্থলী ও অন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলে গেলে অনেকসময় অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়ার একটা মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের কাঁটা গিলে ফেলাটাকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা গ্রহণই প্রাণঘাতী জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

সূত্র: Why Swallowing a Fish Bone Can Become a Life-Threatening Medical Emergency By Adam Taylor, Lancaster University, July 9th , 2026, Adapted from an article originally published in The Conversation.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + three =