নারী কি সত্যিই দশকর্মা? 

নারী কি সত্যিই দশকর্মা? 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৩ জুলাই, ২০২৬

অনেক দিন ধরেই একটি ধারণা প্রচলিত যে, নারীরা নাকি পুরুষদের তুলনায় মাল্টিটাস্কিং বা একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ক্ষেত্রে অধিক দক্ষ। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যের গবেষকদের নতুন একটি গবেষণা অনুযায়ী বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরলরৈখিক নয়। দেখা গেছে, অধিকাংশ কাজেই নারী ও পুরুষের কর্মক্ষমতা প্রায় সমানই। পার্থক্যটা দেখা গেছে মূলত কথোপকথন চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। আর এই ছোট পার্থক্যই মানুষের মনে নারীদের ভালো মাল্টিটাস্কার হিসেবে পরিচিত করে তুলছে। গবেষণাটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে সাইকোলজিক্যাল রিসার্চ জার্নালে। এতে গবেষক আন্দ্রে স্যামেইট্যাট ও ডায়ানা স্যামেইট্যাট একটি বিশেষ পরীক্ষার উদ্ভাবন করেন। যেটা অনেকটা দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব পরিস্থিতির মতোই। পরীক্ষায় ৪১ জন পুরুষ ও ৩৭ জন নারীকে একই সময়ে পাঁচটি কাজ করতে বলা হয়। তাদের রান্নার একটি পদ অনুসরণ করতে, একটি ফোন নম্বর খুঁজে বের করতে, সংখ্যা ও অক্ষর মিলিয়ে দেখতে, একটি স্লাইডশোতে নির্দিষ্ট শব্দ পর্যবেক্ষণ করতে এবং একই সঙ্গে একটি কথোপকথনে অংশ নিতে বলা হয়। প্রতি ২০ সেকেন্ড অন্তর অন্তর তাদের একটি প্রশ্নের উত্তরও দিতে হয়। দেখা গেল, রান্না, তথ্য খোঁজা, সংখ্যা-অক্ষর মেলানো এবং স্লাইডশো পর্যবেক্ষণের মতো কাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে সেরকম উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না। কিন্তু কথোপকথনের সময় পুরুষরা নারীদের তুলনায় দুই গুণেরও বেশি ক্ষেত্রে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। তবে তারা যেকয়টি উত্তর দিয়েছেন, সেগুলির গতি ও মান নারীদের সমান-সমানই ছিল। অর্থাৎ, পুরুষরা কথোপকথনকে অন্য কাজের তুলনায় কম গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তাই বলে এ ব্যাপারে তাদের সামগ্রিক দক্ষতা কম ছিল, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গবেষকরা আরও একটি পরীক্ষা করেন। যেখানে ১৬০ জন পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণকারীদের ভিডিও দেখে তাদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। এখানে দেখা যায়, যেসব পুরুষ কথোপকথনে কম অংশ নিয়েছিলেন, তাদের কম মনোযোগী, কম দক্ষ, কম নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং কাজটি কম উপভোগ করছেন বলেই মনে হয়েছে। অন্যদিকে, যারা কথা চালিয়ে গেছেন, বিশেষ করে নারীরা, তাদের বেশি আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ বলে মনে হয়েছে।

কথোপকথন এমন একটি বিষয় যা অন্যদের চোখে খুব সহজে ধরা পড়ে। কেউ যদি রান্না বা তথ্য খোঁজার সময় সামান্য ভুল করেন, তা অনেকেই খেয়াল করেন না। কিন্তু কথোপকথন হঠাৎ থেমে হয়ে গেলেই সেটা সাথে সাথে সবার নজরে আসে। ফলে লোকে মনে করতে পারে যে তিনি হয়তো চাপ সামলাতে পারছেন না, যদিও বাস্তবে তিনি অন্য কাজগুলো সফলভাবেই করছেন।

এই গবেষণাটি অবশ্য একপেশে ভাবে এমন দাবি করে না যে সব নারী সবসময়ই পুরুষদের চেয়ে ভালো মাল্টিটাস্কার। বরং এটাই ফুটিয়ে তোলে যে, মানুষের মূল্যায়নে কথোপকথনের মতো দৃশ্যমান সামাজিক আচরণ একটা বড় ভূমিকা পালন করে। তাই নারীরা যদি একাধিক কাজের মাঝেও কথোপকথন বজায় রাখেন, তাহলে তাদের আরও দক্ষ মনে হয়। গবেষকদের মতে, এই দৃশ্যমান পার্থক্যটিইএমন জনপ্রিয় ধারণার জন্ম দিয়েছে যে সময়ের সঙ্গে নারীরা মাল্টিটাস্কিংয়ে বেশি দক্ষ।

 

সূত্র: “Men talk less than women during multitasking” by André J. Szameitat and Diana P. Szameitat, 15 May 2026, Psychological Research.

DOI: 10.1007/s00426-026-02279-5

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 − three =