সাপের বিষদাঁত, বিচ্ছুর হুল, হাঙরের দাঁত, গোলাপের কিংবা গাছের কাঁটা—দেখতে ভিন্ন হলেও এদের কার্যকারিতার পেছনে কাজ করে একই ধরনের পদার্থবিজ্ঞানের নীতি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির সব ধরনের ছিদ্রকারী অঙ্গকে একই মৌলিক সমঝোতার মধ্যে দিয়ে কাজ করতে হয়—একদিকে লক্ষ্যবস্তু সহজে ভেদ করার ক্ষমতা, অন্যদিকে নিজের কাঠামোগত দৃঢ়তা বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন -এর বিবর্তন জীববিজ্ঞানী ফিলিপ এস. এল. অ্যান্ডারসন এবং তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, যে কোনও ধারালো অগ্রভাগকে লক্ষ্যবস্তু ভেদ করতে যথেষ্ট শক্তি প্রয়োগ করতে হয়, আবার একই সঙ্গে চাপ সহ্য করে ভেঙে বা বেঁকে যাওয়া থেকেও নিজেকে রক্ষা করতে হয়। এই দুই চাহিদার মধ্যে ভারসাম্যই নির্ধারণ করে একটি বিষদাঁত, হুল বা কাঁটার নকশা। বিভিন্ন আকৃতির ত্রিমাত্রিক-মুদ্রিত শঙ্কু সিলিকন জেল-এর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তাঁরা পরীক্ষা চালান। দেখা যায়, লম্বা ও সরু অগ্রভাগ সহজে ভেদ করতে পারলেও তারা সহজেই বেঁকে যেতে পারে। বিপরীতে মোটা ও গোলাকার অগ্রভাগ বেশি শক্তিশালী হলেও লক্ষ্যবস্তু ভেদ করতে বেশি শক্তি লাগে। এরপর তাঁরা উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের ১৪৩টি প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের ছিদ্রকারী অঙ্গ বিশ্লেষণ করেন। বিচ্ছুর হুল, কিং কোবরার বিষদাঁত, গোলাপের কাঁটা, হাঙরের দাঁত এবং লাল-লেজওয়ালা বাজপাখির নখ- এগুলি সবই ভেদক্ষমতা ও শক্তির ভারসাম্যে সেরা অবস্থানে ছিল। তাছাড়া একই কাজের জন্য ব্যবহৃত অঙ্গগুলোর আকৃতি সবসময় এক রকম হয় না। যেমন হাঙরের দাঁতের সঙ্গে কোণ শামুকের হারপুনের, আবার স্তন্যপায়ীর শ্বদন্তর সঙ্গে কিছু বোলতার হুলের আশ্চর্য মিল দেখা যায়। এই ফলাফল শুধু বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভবিষ্যতে চিকিৎসায় ব্যবহৃত সূঁচ, অস্ত্রোপচারের যন্ত্র এবং ছিদ্র-প্রতিরোধী নতুন উপাদান তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে , কেন বিবর্তন কখনও একটি ‘নিখুঁত’ ধারালো অগ্রভাগ তৈরি করেনি; বরং ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য হাজারো রকমের নকশা গড়তে দিয়েছে – তার ব্যাখ্যাও এ থেকে বেরিয়ে আসে।
সূত্র: Science Advances; Jul; 2026
