অ্যান্টিবায়োটিকে বাধ্যতামূলক কিউ আর কোড

অ্যান্টিবায়োটিকে বাধ্যতামূলক কিউ আর কোড

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৬ জুলাই, ২০২৬

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এবং নিম্নমানের ওষুধের কারণে বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এ এম আর) বা জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা একটি বৃহৎ জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা হয়ে উঠেছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ভারত সরকার ওষুধের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের ২২ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভ্যাকসিন, যাবতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ (যেমন অ্যান্টিবায়োটিক), ক্যানসারের ওষুধ এবং মাদক ও সাইকোট্রপিক ওষুধের প্রতিটি প্যাকেটে QR কোড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মটি ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫-এর নতুন সংশোধিত ‘সিডিউল H2’-এর আওতায় কার্যকর হবে।
ভারতে প্রথম QR কোডভিত্তিক ওষুধ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু হয় ২০২২ সালে। তখন দেশের শীর্ষ ৩০০টি ওষুধ ব্র্যান্ডের প্যাকেটে বারকোড বা QR কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ও অন্যান্য অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ সেই তালিকার বাইরে ছিল। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্র্যান্ড নয়, বরং সব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধই এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে। প্রতিটি ওষুধের QR কোডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এর মধ্যে থাকবে ওষুধের স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর, জেনেরিক ও ব্র্যান্ড নাম, প্রস্তুতকারকের নাম ও ঠিকানা, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উৎপাদন লাইসেন্স নম্বর এবং ওষুধে ব্যবহৃত সহায়ক উপাদান (এক্সিপিয়েন্টস)-এর তথ্য। এসব তথ্য স্ক্যান করেই সহজে যাচাই করা যাবে।
সরকার ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু করবে। ২০২৭ সালের ১লা জুলাই থেকে ভ্যাকসিন, ক্যানসারের ওষুধ এবং মাদক ও সাইকোট্রপিক ওষুধে QR কোড বাধ্যতামূলক হবে। আর ২০২৮ সালের ১লা জুলাই থেকে সব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধেও এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে স্বেচ্ছায় এই ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধা হলো ওষুধের ট্র্যাক-অ্যান্ড-ট্রেস বা উৎপাদন থেকে রোগীর হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ সহজে অনুসরণ করা যাবে। ফলে নিম্নমানের, ভেজাল, নকল বা ভুল লেবেলযুক্ত ওষুধ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। কোনো ব্যাচে সমস্যা ধরা পড়লে সেটি দ্রুত বাজার থেকে প্রত্যাহার করাও সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিকে পর্যাপ্ত কার্যকর উপাদান না থাকলে সংক্রমণ পুরোপুরি সারে না এবং জীবাণু ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। তাই QR কোডভিত্তিক এই ডিজিটাল ব্যবস্থা শুধু ওষুধের সত্যতা যাচাই নয়, বরং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তবে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এই উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর।
সূত্র: https://www.downtoearth.org.in/health/how-qr-codes-on-antibiotics-can-strengthen-indias-fight-against-amr

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × four =