কোষের ঘনিষ্ঠতা ও মাইটোকন্ড্রিয়ার কর্মক্ষমতা

কোষের ঘনিষ্ঠতা ও মাইটোকন্ড্রিয়ার কর্মক্ষমতা

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৬ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে মানবদেহের কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া, আগের তুলনায় কম প্রোটিন তৈরি করে। শুধু মানুষের কোষেই নয়, ক্ষুদ্র গোলকৃমি কেনোরহ্যাবডিটিস এলিগ্যানস-এর ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন দেখা গেছে। গবেষণায় একটি নতুন আণবিক প্রক্রিয়ার সন্ধান মিলেছে, যার মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব কোষে পৌঁছায়। গবেষকদের মতে, কোষগুলির পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা বা সেল অ্যাডহেশন দুর্বল হয়ে পড়ায় মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রোটিন উৎপাদন কমে যায়। ডেনমার্কের মহাকাশ জীববিজ্ঞানী টমাস কোরিডনের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের আগে মহাকাশচারীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে পারে। জাপানের রাইকেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিনতারো ইওয়াসাকি ও তাঁর সহকর্মীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মানুষের কোষ ২৪ ও ৪৮ ঘণ্টা ধরে মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে বৃদ্ধি করেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মাইটোকন্ড্রিয়াল mRNA-এর পরিমাণ কমে যায় এবং রাইবোজোম কম প্রোটিন তৈরি করে। একই ধরনের ফল পাওয়া যায় এলিগ্যানস গোলকৃমির লার্ভার ক্ষেত্রেও। পৃথিবীতে ক্লিনোস্ট্যাট যন্ত্র ব্যবহার করে কম মাধ্যাকর্ষণের পরিবেশ অনুকরণ করেও একই ফল পাওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টায় মাইটোকন্ড্রিয়ার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের উৎপাদন কমে যায়, ৪৮ ও ৭২ ঘণ্টায় এই প্রভাব আরও বেড়ে যায়।

গবেষকরা আরও দেখেছেন, কোষের ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার কাজে সহায়ক প্রোটিন ব্যবহার করলে মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রোটিন উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু কোষের ঘনিষ্ঠতা ব্যাহত করলে প্রোটিন উৎপাদন ও অক্সিজেন ব্যবহার, দুই-ই কমে যায়। বিজ্ঞানীদের আশা, এই গবেষণা শুধু মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নয়, বার্ধক্যজনিত পেশি ক্ষয় (সারকোপেনিয়া) প্রভৃতি রোগের চিকিৎসায়ও নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাবে।

 

সূত্র: https:// doi .org/10.1038/d41586-026-02089-0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + nine =