মানুষ ও অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে নারীরা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় বেশি দিন বাঁচেন। কিন্তু উত্তর আমেরিকার অধিকাংশ পাখির ক্ষেত্রে চিত্রটি ঠিক উল্টো। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস অ্যাঞ্জেলেস-এর গবেষক জোয়ানা উ ও তাঁর সহকর্মীরা ২৭ বছরে ৯২টি প্রজাতির পাঁচ লক্ষেরও বেশি পাখির তথ্য বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায়, ৮২টি প্রজাতিতে স্ত্রী পাখির বেঁচে থাকার হার পুরুষদের তুলনায় কম। গড় হিসেবে বছরে স্ত্রী পাখির বেঁচে থাকার হার ৪৮ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ স্ত্রী পাখির টিকে থাকার হার সাধারণের চেয়ে প্রায় ১২.৪ শতাংশ কম এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর পুরুষ পাখি গড়ে ১৮.৫ শতাংশ বেশি দিন বাঁচে। দীর্ঘ দূরত্বে পরিযায়ী প্রজাতিগুলিতে এই পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। অনেক প্রজাতিতে স্ত্রী পাখিকে পুরুষের তুলনায় আরও বেশি দূর উড়তে হয়, ফলে ঝড়, শিকারি ও ক্লান্তির মতো ঝুঁকি বাড়ে। যেসব পাখির ডানা দীর্ঘ উড়ানের জন্য তুলনামূলক কম উপযোগী, তাদের মধ্যেও স্ত্রী-পুরুষের আয়ুর ব্যবধান বেশি দেখা গেছে। ডিম পাড়ার কারণে স্ত্রী পাখির আয়ু কমে-এই প্রচলিত ধারণারও এক্ষেত্রে সমর্থিত নয়। বেশি ডিম পাড়া বা প্রতিটি ডিমে বেশি শক্তি ব্যয় করা প্রজাতিগুলিতে স্ত্রী পাখির মৃত্যুহার বেশি নয়। বরং ছানাদের খাবার জোগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজই বেশি শক্তিক্ষয়ী হতে পারে। এর আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে লিঙ্গ-ক্রোমোজোমের পার্থক্য। স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে XY ক্রোমোজোমধারী পুরুষদের আয়ু তুলনামূলক কম হলেও পাখিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের ক্রোমোজোম বহন করে স্ত্রী পাখিরা। তবে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও সরাসরি পরীক্ষা করা হয়নি। তাছাড়া আবাসস্থল ধ্বংস ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যদি স্ত্রী পাখিদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, তবে তা উত্তর আমেরিকায় পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: Earth . com ; July ; 2026
