নিঃশ্বাস পরীক্ষা করে যক্ষ্মা শনাক্ত

নিঃশ্বাস পরীক্ষা করে যক্ষ্মা শনাক্ত

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৭ আগষ্ট, ২০২৬

মানুষের নিঃশ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে আসে হাজার হাজার উদ্বায়ী জৈব যৌগ। শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া এবং জীবাণুর প্রভাবে তৈরি এই অণুগুলির মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে রোগের ইঙ্গিত। সেই রাসায়নিক সংকেত বিশ্লেষণ করে নিঃশ্বাস থেকে যক্ষ্মা রোগ শনাক্ত করার সম্ভাবনা দেখিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বতসোয়ানা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-র গবেষকরা জর্জ চিমোয়া-র নেতৃত্বে সক্রিয় যক্ষ্মা, মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টিবি এবং সুস্থ ব্যক্তিদের নিঃশ্বাসের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনাগুলি গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি-মাস স্পেকট্রোমেট্রি দিয়ে বিশ্লেষণ করেন। ৮৭টি নমুনা থেকে পাওয়া ১,৮৬৭টি স্পেকট্রাল বা বর্ণালী বৈশিষ্ট্য চারটি মেশিন লার্নিং মডেলে পরীক্ষা করা হয়—ডিসিশন ট্রি, র‍্যান্ডম ফরেস্ট, কে-নিয়ারেস্ট নেবার এবং সাপোর্ট ভেক্টর মেশিন। এর মধ্যে লিনিয়ার সাপোর্ট ভেক্টর মেশিন সবচেয়ে ভালো ফল দেখিয়েছে। সক্রিয় টিবি, মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টিবি এবং সুস্থ ব্যক্তিদের প্রায় ৯৩ শতাংশ নির্ভুলভাবে আলাদা করে মডেলটি । নিঃশ্বাসের রাসায়নিক সংকেতের ১০ থেকে ৩০ মিনিটের রিটেনশন টাইমে টিবি শনাক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্বায়ী জৈব যৌগ-এর উপস্থিতি বেশি। এই অংশে ট্রাইডেকেন, ডেকেন এবং ও-সাইমিন-এর মতো সম্ভাব্য বায়োমার্কারও পাওয়া গেছে। ফলে ভবিষ্যতে পুরো রাসায়নিক বর্ণালী বিশ্লেষণ না করে এই নির্দিষ্ট অংশটুকু পরীক্ষা করেই দ্রুত টিবি শনাক্ত করার পথ খুলতে পারে। উন্নত পরীক্ষাগারের সুযোগ যেখানে সীমিত, সেখানে দ্রুত ও নিরীহ নিঃশ্বাস পরীক্ষা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে রোগ নির্ণয়ের নিয়মিত পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহারের আগে এটিকে আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও যাচাই প্রয়োজন।

 

সূত্র: physicsworld; July 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × one =