পুরনো পার্চমেন্টে জিন-তথ্য

পুরনো পার্চমেন্টে জিন-তথ্য

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৯ আগষ্ট, ২০২৬

শত শত বছর আগের কোনও পুঁথি বা নথির পাতায় কেবল কালি-অক্ষরই থাকে না। বরং পাতার উপাদানেই লুকিয়ে থাকতে পারে সেই সময়ের প্রাণী, কৃষি, বাণিজ্য ও জীবনযাপনের নানা তথ্য। বিজ্ঞানীরা এক নতুন পদ্ধতির সাহায্যে পুরনো পার্চমেন্টের ক্ষতি না করেই তার মধ্য থেকে জিনগত উপাদান সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে পেরেছেন। পার্চমেন্ট তৈরি হয় পশুর চামড়া থেকে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার বছর ধরে লেখার উপকরণ হিসেবে এর ব্যবহার ছিল। আইনি নথি, মানচিত্র, ধর্মীয় লেখা থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল তৈরি হয়েছে পার্চমেন্টে। চামড়া দিয়ে তৈরি হওয়ায় এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জৈব উপাদান ও ডিএনএ-র সূত্র সংরক্ষিত থাকতে পারে। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক টিম স্টিনসন জানান, এই জিনগত তথ্যের সাহায্যে কোনও পাণ্ডুলিপি কখন, কোথায় এবং কোন প্রাণীর চামড়া দিয়ে তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি, পার্চমেন্টের ডিএনএ থেকে গৃহপালিত প্রাণীর বিবর্তন, বিভিন্ন জাতের বিকাশ এবং অতীতে গবাদি পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোগ সম্পর্কেও তথ্য মিলতে পারে। গবেষণা পত্রটির সহ-লেখক অধ্যাপক ম্যাথিউ ব্রিন-এর মতে, অতীতের গৃহপালিত প্রাণী ও তাদের রোগের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে পার্চমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উৎস হতে পারে। তবে এতদিন বড় বাধা ছিল মূল্যবান পাণ্ডুলিপি থেকে নমুনা সংগ্রহ। প্রাচীন নথি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লাইব্রেরি, সংগ্রহশালা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গবেষকদের নমুনা সংগ্রহ করতে দিতে দ্বিধা বোধ করত। নতুন পদ্ধতিতে পার্চমেন্টের দৃশ্যমান ক্ষতি না করেই জৈব উপাদান সংগ্রহ করা সম্ভব, ফলে সেই বাধা অনেকটাই দূর হয়েছে। পুরনো পার্চমেন্ট শুধু লেখার মাধ্যম নয়, এ এক ধরনের ‘জৈব আর্কাইভ’। এখন ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও জিনবিজ্ঞানীরা একসঙ্গে কাজ করলে হয়তো এই প্রক্রিয়ায় অতীতের সমাজ, কৃষি, পশুপালন ও প্রাণীর বিবর্তন সম্পর্কে বহু অজানা তথ্য বেরিয়ে আসবে।

 

সূত্র: North Carolina State University; Science Daily; August, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 14 =