কেরলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বনভূমি খণ্ডিত হওয়া, কৃষিজমি, রাস্তা ও বসতি বাড়ার ফলে খাবার, জল এবং পুরনো চলাচলের পথের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতি, বাঘ, চিতা ও গৌর। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল ও বাড়িঘর, বাড়ছে মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও।
এই পরিস্থিতিতে কেরল সরকার বনাঞ্চলের বহনক্ষমতা নির্ণয়, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, দ্রুত সাড়া দেওয়ার দল শক্তিশালী করা, সৌর বেড়া ও নজরদারি উন্নত করা এবং প্রয়োজনে সংঘাতপূর্ণ প্রাণীকে অন্যত্র সরানোর পরিকল্পনা করছে। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে হেলিকপ্টারে প্রাণী সরানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রাণী সরালেই সংঘাতের কারণ দূর হয় না। হাতির বিস্তৃত বিচরণক্ষেত্র ও অসাধারণ স্মৃতিশক্তির কারণে অন্যত্র সরিয়ে দিলেও তারা পুরনো এলাকায় ফিরে আসতে পারে। সেই পথে নতুন গ্রাম বা কৃষিজমিতে সংঘাত তৈরি হতে পারে। আবার নতুন এলাকায় আগে থেকেই হাতির দল থাকলে দেখা দিতে পারে খাদ্য ও সামাজিক প্রতিযোগিতা।
বাঘের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থলে বাঘ পুনর্বাসন আর লোকালয়ে সংঘাতের কারণে বাঘকে ধরে অন্যত্র ছেড়ে দেওয়া এক নয়। প্রাণী সরানোর আগে আবাসস্থল, খাদ্য, রোগের ঝুঁকি, জনসংখ্যার কাঠামো এবং নতুন এলাকার উপযোগিতা যাচাই করা জরুরি। GPS বা রেডিও কলারের মাধ্যমে পরবর্তী নজরদারিও অপরিহার্য।
হেলিকপ্টারে সরানোর ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। প্রাণী ধরতে ও অচেতন করতে গিয়ে শারীরিক চাপ, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত তাপ ও আঘাতের সম্ভাবনা থাকে। তাই এ ব্যবস্থা কেবল অত্যন্ত জরুরি উদ্ধার অভিযানে সীমিত রাখাই যুক্তিযুক্ত। মনে হয়,
কেরলের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রাণী সরানো নয়, সংঘাতের উৎস কমানো। বন্যপ্রাণীর চলনপথ রক্ষা, বন ও ঘাসভূমি পুনরুদ্ধার, আগাম সতর্কবার্তা, ক্যামেরা ও GPS নজরদারি, বৈজ্ঞানিক বেড়া, দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ—এসবই বেশি কার্যকর হতে পারে।
কারণ হাতি বা বাঘ তো কোনও রাজ্যসীমা চেনে না। এক এলাকা থেকে প্রাণী সরিয়ে অন্য এলাকায় পাঠালে সমস্যা কেবল স্থানান্তরিতই হবে। কেরল, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু জুড়ে তাদের চলাচল বিবেচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত নীতি তৈরি করতে হবে। এর মধ্যে প্রকৃত সমাধান হলো—মানুষকে নিরাপদ রাখা এবং একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ও আবাসস্থল রক্ষা করা।
সূত্র: https://www.downtoearth.org.in/wildlife-biodiversity/kerala-wants-to-airlift-wildlife-out-of-conflict-zones-can-moving-animals-solve-the-problem
