জটিল অ্যালগরিদম, কঠিন প্রোগ্রামিং আর কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার গভীর জ্ঞান ছাড়া কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে কাজ করা সহজ নয়। তবে সেই ছবিই ধীরে ধীরে বদলে দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সাধারণ ভাষায় নির্দেশ দিলেই যদি এআই কোড লিখে ফেলে, পরীক্ষা চালায় এবং ফলাফলও যাচাই করে, তাহলে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কি আর শুধু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? এমনই ধারণা থেকে প্যারিসের কোয়ান্টাম কম্পিউটিং স্টার্ট-আপ ‘পাসকাল’ তৈরি করেছে একটি এআই এজেন্ট। ইংরেজিতে দেওয়া নির্দেশকে এটি কোয়ান্টাম কোডে পরিণত করতে পারে এবং সেই কোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোয়ান্টাম কম্পিউটারে চালাতেও সক্ষম। এটি ‘ভাইব কোডিং’ নামে পরিচিত। তবে সম্পূরণ প্রক্রিয়াটি এখনও মানুষের হাত ছাড়া সম্পন্ন হয় না। অনেক সময় এআই -কে সঠিক পথে এগিয়ে দিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হয়। তবু ‘পাসকাল’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফ জুরচাকের অভিজ্ঞতা আশাব্যঞ্জক। তাঁর দাবি, এই এআই এজেন্টের সাহায্যে তিনি এমন কিছু পরীক্ষা চালাতে পেরেছেন, যার জন্য আগে সাধারণত কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে বিশেষজ্ঞ একদল পদার্থবিদের প্রয়োজন হতো। গবেষণায় মূল নজর ছিল কোয়ান্টাম সিমুলেশন-এ। কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাহায্যে অন্য কোনও ভৌত ব্যবস্থার আচরণ অনুকরণ করে তার বৈশিষ্ট্য বোঝার চেষ্টা করা হয় এই পদ্ধতিতে। নতুন পদার্থ, অনুঘটক বা অস্বাভাবিক চৌম্বক বৈশিষ্ট্যের উপাদান নিয়ে গবেষণায় এর বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁরা তিনটি ভিন্ন ভৌত ঘটনা নিয়ে কৃবু-কে দিয়ে পরীক্ষা করান। সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্র পড়ে কৃবু-কে প্রথমে সিমুলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কোড তৈরি করতে বলা হয়। কোডটি সরাসরি কোয়ান্টাম কম্পিউটারে পাঠানোর আগে তা প্রচলিত কম্পিউটারে তৈরি ভার্চুয়াল কোয়ান্টাম কম্পিউটারে পরীক্ষা করা হয়। সফল হলে সেটি সৌদি আরব বা কানাডায় থাকা ‘পাসকাল’-এর প্রকৃত কোয়ান্টাম কম্পিউটারে চালানো হয়। পরীক্ষায় কৃবু হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতাও বেশ ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্ভব একটি সিমুলেশনের নির্দেশ দেওয়া হলে, কেন সেটি করা সম্ভব নয়, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে। অবশ্য সব ক্ষেত্রে সাফল্য সমান ছিল না। একটি পরীক্ষায় ভৌত অর্থে নির্ভুল ফল পেতে গবেষকের যথেষ্ট সাহায্য নিতে হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সম্ভাবনাটা বড়। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে কৃবু-কে কোয়ান্টাম কোড লেখার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘পাসকাল’-এর উদ্যোগ সেই ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। কোড লেখা থেকে শুরু করে বাস্তব কোয়ান্টাম মেশিনে পরীক্ষা চালানো পর্যন্ত প্রক্রিয়াটিকে একসঙ্গে বাঁধার প্রয়াস চলছে। তবে এআই এখনও ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ বিজ্ঞানী’ হয়ে ওঠেনি। আপাতত সে একজন দ্রুত শিখে নেওয়া, ক্লান্তিহীন কোয়ান্টাম গবেষণা-সহকারী। সেই সহকারী যদি ক্রমশ আরও দক্ষ হয়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের দরজা হয়তো অনেকটাই খুলে যাবে অ-বিশেষজ্ঞদের
জন্যও।
সূত্রঃ https:// doi. org/10.1038/d41586-026-02495-4
