বৃষ্টির জলে দাবানলের ধোঁয়ার কণা 

বৃষ্টির জলে দাবানলের ধোঁয়ার কণা 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দাবানলের ধোঁয়া কেবলই দূষণ নয়। বৃষ্টির সঙ্গে সেই ধোঁয়ার কণা মাটিতে নেমে এসে বাস্তুতন্ত্রে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দিতে পারে। নতুন এক গবেষণায় প্রথম বড় পরিসরে প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইউটা-র গবেষকদের নেতৃত্বে এই গবেষণায় ২০১৪, ২০২০ ও ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উপগ্রহের মাধ্যমে দাবানলের ধোঁয়ার গতিপথের তথ্যের সঙ্গে বৃষ্টির জলের রাসায়নিক বিশ্লেষণের তথ্য মিলিয়ে তাঁরা আমেরিকার ১৬টি জলবায়ু অঞ্চলের ২৫০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য পরীক্ষা করেছেন। দাবানলে গাছপালা ও অন্যান্য জৈব পদার্থ পুড়ে গেলে নানা ধরনের গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে থাকে নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম, যা কিনা জীবজগতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পুষ্টি উপাদান। বৃষ্টি সেই ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে নামার সময় কণাগুলিকে সঙ্গে করে মাটিতে নিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ওয়েট ডিপোজিশন’ বা বৃষ্টির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলীয় পদার্থের অবক্ষেপণ। বৃষ্টির জলে এই পুষ্টি উপাদানগুলি দ্রবীভূত হয়ে যাওয়ায় গাছপালা, জলজ প্রাণী এবং অন্যান্য জীব তা তুলনামূলকভাবে দ্রুত গ্রহণ করতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ধোঁয়া ও বৃষ্টি একসঙ্গে উপস্থিত থাকার ঘটনা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বছরে গড়ে প্রায় ৪ দিন ধোঁয়া-বৃষ্টির এমন মিল দেখা যেত। কিন্তু ২০২০ সালে তা বেড়ে হয় প্রায় ৬ দিন। ২০২২ সালে সংখ্যাটি লাফিয়ে পৌঁছয় প্রায় ২২ দিনে। আমেরিকার আপার মিডওয়েস্ট অঞ্চলে এমন ঘটনা ঘটেছে বেশি। তবে অন্যান্য অঞ্চলে বছরভেদে চিত্র বদলেছে। কারণ, দাবানলের ধোঁয়ার বিস্তার তো প্রতি বছর একরকম থাকে না। তবে ধোঁয়া থেকে পুষ্টি মাটিতে পৌঁছলেই যে তা পরিবেশের জন্য ভালো, এমনটা ভাবার কারণ নেই। কোনও পুষ্টির ঘাটতিযুক্ত পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন বা ফসফরাস গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আবার যেখানে কৃষিজমির সার বা অন্যান্য উৎস থেকে আগে থেকেই প্রচুর পুষ্টি জমা হয়েছে, সেখানে এর প্রভাব সামান্যও হতে পারে। হ্রদে অতিরিক্ত পুষ্টি জলজ জীবের উৎপাদন বাড়াতে পারে, আবার একই সঙ্গে কোন প্রজাতি বেশি বাড়বে, আর কোনটি কমে যাবে, তার হিসেব বদলে দিতে পারে। বনাঞ্চলেও ধোঁয়া থেকে আসা পুষ্টির প্রভাব সবসময় এক নয়। কোথাও গাছের বৃদ্ধি বাড়তে পারে, আবার কোথাও গাছের টিকে থাকার হার কমতেও পারে। গবেষকদের পরবর্তী লক্ষ্য, নির্দিষ্ট ধোঁয়ার স্তম্ভকে তার দাবানল উৎস পর্যন্ত অনুসরণ করা। কারণ বনাঞ্চলের আগুন এবং কৃষিজমিতে আগুনের ফলে বাতাসে ছড়ানো পদার্থের রাসায়নিক গঠন এক নাও হতে পারে। শুধু দাবানল আর ধোঁয়াশা জনিত ক্ষতিই নয়, বোঝা দরকার এর সুফলগুলিও।

 

সূত্র: Global Change Biology; Earth . com; August 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × five =