প্রায় আট মাস পর আবার উৎক্ষেপণ মঞ্চে ফিরতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে GSLV F17 রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হবে EOS-5 উপগ্রহ। আগে উপগ্রহটির নাম ছিল GISAT-1A। ইসরো-র চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, এই মিশনটি সংস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই EOS-5 একটি উন্নত পৃথিবী পর্যবেক্ষক উপগ্রহ। প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে এটি ভারতের উপর নজর রাখবে। উপগ্রহটি দিনে একাধিকবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি, বনভূমিতে আগুনসহ দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছবি ও তথ্য দ্রুত পাওয়া যাবে। এই তথ্য দুর্যোগ মোকাবিলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, কৃষি পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তার কাজে বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে।
এই উৎক্ষেপণের সঙ্গে ইসরো-র অতীতের একটি ব্যর্থ মিশনের স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে। ২০২১ সালের ১২ আগস্ট GSLV F10 রকেটের মাধ্যমে একই ধরনের EOS-03 উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। দেশীয় ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের সমস্যার কারণে রকেটটি উপগ্রহকে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছে দিতে পারেনি। EOS-5 কার্যত সেই হারানো মিশনের উত্তরসূরি।
অন্যদিকে, ইসরো-র PSLV রকেট পরপর দুটি ব্যর্থতার পর আপাতত মাটিতে রয়েছে এবং একাধিক তদন্ত ও পরীক্ষা চলছে। তবে EOS-5 উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত GSLV Mk II-এর ইঞ্জিন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রপালশন ব্যবস্থা PSLV-র থেকে আলাদা। ফলে PSLV-র সমস্যার সরাসরি প্রভাব এই মিশনে পড়ার কথা নয়।
সম্প্রতি GSLV Mk II সফলভাবে NASA-ISRO NISAR উপগ্রহকে মহাকাশে পাঠিয়েছে। এই সাফল্য রকেটটির নির্ভরযোগ্যতা এবং ইসরো-র ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে অগ্রগতির উপর আস্থা বাড়িয়েছে।
EOS-5 উৎক্ষেপণ সফলভাবে হলে, পূর্বের ব্যর্থতার পর ইসরো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। সংস্থাটি ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে সাতটি উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে গগনযান কর্মসূচির প্রথম মানববিহীন পরীক্ষামূলক উড়ানও রয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে ইসরো মোট ১২টি উপগ্রহ তৈরি এবং আটটি উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে।
সূত্র:https://www.ndtv.com/india-news/isro-seeks-to-make-comeback-with-hawkeye-satellite-launch-on-september-4-11971544/amp/1
