শুক্র গ্রহের মেঘের ‘অতিবেগুনি শোষক’

শুক্র গ্রহের মেঘের ‘অতিবেগুনি শোষক’

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খালি চোখে শুক্রকে হলুদাভ গ্রহ বলেই মনে হয়। কিন্তু অতিবেগুনি আলোয় তাকালেই বদলে যায় সেই চেনা চেহারা। ঘন মেঘের উপর ছড়িয়ে থাকে গাঢ় ও ফিকে রেখা-দাগ, যা প্রায় চার দিনে একবার শুক্রের দ্রুতগতি বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘুরে যায়। একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন-এই অন্ধকারের উৎস কী? অজানা এই পদার্থকেই বিজ্ঞানীরা বলেন ‘অতিবেগুনি আলো শোষক পদার্থ’। জান স্পাসেক ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল জাপানের আকাতসুকি মহাকাশযান থেকে পাওয়া এ সম্পর্কিত উচ্চ-নির্ভুলতার তথ্য বিশ্লেষণ করেন। মেঘের কণায় আলো ছড়িয়ে পড়া এবং গ্যাসের আলো শোষণ প্রভৃতি প্রভাবগুলি বাদ দিলে দেখা যায়, প্রায় ৩৭৫ ন্যানোমিটারে অতিবেগুনি আলো শোষণের মাত্রা অস্বাভাবিক রকম বেশি। অর্থাৎ শুক্রের মেঘে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী এক আলো-শোষক অণু, যার নাম ক্রোমোফোর। এই ক্রোমোফোর কী? দীর্ঘদিনের অনুমানের তালিকায় ছিল লৌহ ক্লোরাইড বা সালফার-যুক্ত অজৈব যৌগ । সমস্যা হল, এতটা আলো শোষণ করতে হলে মেঘের কণায় এগুলির পরিমাণ অনেক বেশি হতে হবে, যা শুক্রের বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য মডেলের সঙ্গে মেলে না। তাহলে কি দায়ী জৈব অণু? হতে পারে। কিন্তু রয়েছে সমস্যাও। শুক্রের মেঘ মূলত সালফিউরিক অ্যাসিডের কণা দিয়ে তৈরি। সেখানে সাধারণ জৈব পদার্থ টিকে না থেকে ভেঙে গিয়ে ‘লাল তেল’-এর মতো পদার্থে পরিণত হওয়ার কথা। এই ধরনের পদার্থ দৃশ্যমান আলোর প্রায় পুরো অংশই শোষণ করে। অথচ আকাতসুকি-র তথ্য বলছে, প্রায় ৪৫৫ ন্যানোমিটারের পর আলো শোষণের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। অর্থাৎ জৈব অণুই যদি আসল কারণ হয়, তবে সেগুলি সাধারণ জৈব পদার্থ নয়। তাদের এমন বিশেষ ও স্থায়ী রাসায়নিক গঠন আছে, যা সালফিউরিক অ্যাসিডের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। রহস্যের সমাধান হয়তো পাওয়া যাবে শুক্রের মেঘে সরাসরি নজর রাখলে। ভবিষ্যতের একটি বেসরকারি শুক্র অভিযানে রকেট ল্যাবের স্বতঃদীপ্তি মাপার যন্ত্র মেঘের মধ্যে ৪৪০ ন্যানোমিটারের লেজার পাঠাবে। যদি জটিল জৈব অণু থাকে , তাহলে তারা একটি বিশেষ ধরনের আলো বা স্বতঃদীপ্তি তৈরি করতে পারে। সেই ক্ষীণ আলো ধরা পড়লেই হয়তো শতাব্দী প্রাচীন প্রশ্নের উত্তর মিলবে: শুক্রের মেঘে কী রয়েছে, যা তাকে অতিবেগুনি আলো শোষণে এত দক্ষ করে তুলছে!

 

সূত্র: Universe Today; September 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 1 =