ঘুড়ির মাঞ্জার বিপদ 

ঘুড়ির মাঞ্জার বিপদ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতায় কাচের গুঁড়ো, ধাতুর গুঁড়ো কিংবা ধারালো উপাদানে তৈরি হয় মাঞ্জা। মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় প্রতি বছর জখম হয়, এমনকি প্রাণও যায় বহু পাখির। পায়রা, কাক, পেঁচা থেকে শুরু করে বিপন্ন শকুন। তবে বিপদ শুধু পাখিদেরই নয়। বাইক, স্কুটার, সাইকেল কিংবা খোলা গাড়িতে যাতায়াতকারী মানুষও এই ধারালো সুতোয় জড়িয়ে গুরুতর আহত, এমনকি নিহত হন। বিদ্যুতের তারেও মাঞ্জা জড়িয়ে বিপর্যস্ত হয় পরিষেবা। একটি বিদ্যুৎ লাইনে গোলমাল হলে সমস্যায় পড়তে পারেন কম করে ১০ হাজার মানুষ। ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল সারা দেশে নাইলন, প্লাস্টিক-সহ সিন্থেটিক ‘চাইনিজ মাঞ্জা’ নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু কাচ বা ধাতুর গুঁড়ো মেশানো তুলোর সুতো সেই নিষেধাজ্ঞার বাইরেই থেকে যায়। পরে চণ্ডীগড়, দিল্লি, গোয়া, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, তেলেঙ্গানা ও ত্রিপুরা আরও কড়া পথে হেঁটে সব ধরনের ধারালো মাঞ্জা নিষিদ্ধ করে শুধু সাদামাটা তুলোর সুতো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও এবার কাচ বা ধাতু-লেপা সুতোর মাঞ্জাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। এর আগে ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ড সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সব ধরনের ক্ষতিকর মাঞ্জা নিষিদ্ধ করে শুধু সাধারণ তুলোর সুতো ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। বার্তা একটাই— ঘুড়ি উড়ুক ক্ষতি না করে। মানুষ, পাখি ও পরিবেশের নিরাপত্তার জন্য দেশে সব ধরনের ধারালো ঘুড়ির সুতো তৈরি, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধ করার সময় এসেছে।

 

PETA India ; Sept; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 2 =