নতুন খাবার ‘স্পেকবুম’   

নতুন খাবার ‘স্পেকবুম’   

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার পরিচিত গাছ স্পেকবুম। মূলত মাটি ধরে রাখা, জল সংরক্ষণ এবং বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের জন্য এতদিন এই গাছ বিশেষ পরিচিত ছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, এ গাছের পাতা খাবার হিসেবেও বেশ সম্ভাবনাময়। স্পেকবুমের মোটা, রসালো পাতায় ৯৩ শতাংশেরও বেশি জল থাকে। কাঁচা অবস্থায় পাতার স্বাদ অনেকটা লেবুর মতো টক, সঙ্গে থাকে একটা মচমচে ভাব। গবেষকেরা পাতাগুলি কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি আভেনে সেঁকে, অল্প তেলে ভেজে, ভাপে রান্না করে এবং ফুটন্ত জলে অল্প সময় সেদ্ধ করেও পরীক্ষা করেছেন। রান্নার পর পাতা আরও নরম ও হালকা হয়ে যায়, তবে টকভাব ও আর্দ্রতা বজায় থাকে। এমনকি সেদ্ধ করার পর পাতায় ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কাঁচা পাতার তুলনায় বেশি পাওয়া যায়। তবে শুধু সবজি হিসেবে নয়, স্পেকবুম দিয়ে নানা ধরনের খাবারও তৈরি করা যায়। গবেষকেরা বানিয়েছেন লেবু-স্পেকবুম কার্ড, টমেটো চাটনি, আচার এবং শুকনো পাতার মশলা ‘দুক্কাহ’। মিষ্টি, নোনতা বা ঝাল উপকরণের সঙ্গে এর টক স্বাদ ভালোভাবেই মিশে যায় বলে দাবি। তবে মানুষ কি আদৌ এই পাতা খেতে আগ্রহী? ১২০ জনের উপর করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ৭৯.২ শতাংশ মানুষ স্পেকবুম খাবারে ব্যবহার করতে আগ্রহী হয়েছে, ৭৫ শতাংশ জানিয়েছেন, দোকানে পাওয়া গেলে তাঁরা এটি কিনতেও পারেন। আবার ৮২.৫ শতাংশ বলেছেন, এর স্বাস্থ্যগুণ সম্পর্কে আরও সচেতন হলে তাঁরা খেতে আগ্রহী হবেন। স্পেকবুমের অন্য একটি সুবিধা হল, এর চাষে খুব বেশি জল লাগে না, অনুর্বর মাটিতেও এগুলি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। সুতরাং কম জল ও কম খরচে পুষ্টিকর খাবারের উৎস হিসেবেও জায়গা করে নিতে পারে স্পেকবুম।

 

সূত্র: Down to Earth; September 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − fourteen =