চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো বা এক পা এগিয়ে যাওয়ার ঠিক আগেই পেটের পেশি শক্ত হয়ে যায়। ইঁদুরের উপর করা এ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে, পেটের এই পেশির চাপে মাত্র ০.১ সেকেন্ডের মধ্যেই মস্তিষ্কের বড় শিরা সরু হয়ে যায়। ফলে অল্প সময়ের জন্য মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। এতদিন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ধমনী ও ক্ষুদ্র রক্তনালিকে। মস্তিষ্কের কোনও অংশ বেশি সক্রিয় হলে সেখানকার ধমনী প্রসারিত হয় এবং বেশি রক্ত পৌঁছয়- এগুলির উপর। কিন্তু নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে, শিরাগুলিও এই ব্যবস্থায় সক্রিয় ভূমিকা নেয়। পেন স্টেটের গবেষক কিংগুয়াং ঝাং ও প্যাট্রিক ড্রু ইঁদুরের মস্তিষ্কের রক্তনালির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন। ইঁদুর হাঁটা শুরু করার সময় দেখা যায়, মস্তিষ্কের ধমনীগুলি প্রসারিত হলেও বড় শিরাগুলি সরু হয়ে যাচ্ছে। পেটের পেশি সংকুচিত হওয়ার পরেই শিরাগুলিতে এই পরিবর্তন ঘটে—এমনকি পা নড়ার আগেই। শুধু হাঁটার সময় নয়, গোঁফে হালকা বাতাস লাগালেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। শুধু শব্দে এমন প্রতিক্রিয়া হয়নি। অর্থাৎ, মস্তিষ্কের কোনও অংশ সক্রিয় হওয়ার চেয়ে শরীরের নড়াচড়া ও পেশির সংকোচনের সঙ্গেই এই পরিবর্তন বেশি যুক্ত। হাঁটার সময় পেটের পেশি শক্ত হলে ভেতরের চাপ বাড়ে। সেই চাপ শিরার মাধ্যমে মাথায় পৌঁছে বড় শিরাগুলিকে সাময়িকভাবে সরু করে এবং মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ প্রায় ৩ শতাংশ বাড়ায়। শ্বাস নেওয়ার সময়ও একই প্রক্রিয়া কিছুটা ঘটে। ঘুমের সময় পেশির টান ও রক্তচাপ কম থাকায় শিরাগুলি চওড়া থাকে; জেগে উঠলে আবার সরু হয়। গবেষকদের মতে, পেট, শিরা ও মস্তিষ্কের মধ্যে এই যান্ত্রিক যোগসূত্র শরীরের নড়াচড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহকে যুক্ত করে। তবে মানুষের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া ঘটে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে নড়াচড়ার সময় মাথাব্যথা বাড়ার কোনও সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও এখনও নিশ্চিত নয়।
সূত্র: Earth. com; September ; 2026
