বিপদ কেটে গেলেও বুক ধড়ফড় করে, শরীর টানটান থাকে, মাথায় যেন বিপদের অ্যালার্ম বাজতেই থাকে। ভয় কিভাবে শুরু হয়, তা বিজ্ঞানীরা অনেকটাই জানেন। কিন্তু বিপদ কেটে যাওয়ার পরও সেই ভয় কেন কিছুক্ষণ থেকে যায়- এই প্রশ্নের পুরো উত্তর এতদিন পরিষ্কার ছিল না। এবার ইঁদুরের মস্তিষ্কে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন একটি ক্ষুদ্র অঞ্চল, যা এই রহস্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। দলের নাম দেওয়া হয়েছে অ্যামিগডালাস্ট্রায়াটাল ট্রানজিশন জোন (ASt)। এটি মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা-র একেবারে পাশেই অবস্থিত। এতদিন ভয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে অংশটির নাম জড়িয়েছিল, সেটি হল অ্যামিগডালা। বিপদের সংকেত পেলেই এখানকার নিউরনগুলো দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু এই সক্রিয়তা খুব বেশিক্ষণ থাকে না। কয়েক মুহূর্ত পরই নিউরনগুলো আবার শান্ত হয়ে যায়। তাহলে বিপদ চলে যাওয়ার পরও আমাদের শরীর কেন কিছুক্ষণ “বিপদে লড়ো, পালাও, না হলে একেবারে থমকে যাও” – এই মোডে থাকে? নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এর পেছনে ASt-এর বড় ভূমিকা থাকতে পারে। এই অঞ্চলের নিউরনগুলো ভয়ের সংকেতে শুধু বেশি জোরে সক্রিয় হয় না, অ্যামিগডালা-র তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকে। ASt সরাসরি যোগাযোগ করে স্ট্রায়াটাম এর সঙ্গে মস্তিষ্কের এমন একটি অংশের, যা আমাদের ঐচ্ছিক নড়াচড়া পরিকল্পনা, শুরু করা এবং নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ, ভয়ের সংকেতের অ্যালার্ম প্রথমে যেন বাজায় অ্যামিগডালা। আর সেই অ্যালার্মকে কিছুটা সময় ধরে রেখে শরীরকে কী করতে হবে, সে দৌড়বে, জমে যাবে, নাকি অন্য কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাবে- তার জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখতে সাহায্য করতে পারে ASt। গবেষণাটি আপাতত পুরুষ ইঁদুরের মস্তিষ্কে করা হয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ব্যবস্থা কাজ করে কিনা, তা জানতে আরও গবেষণা দরকার। তবু আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভয় শুধু একটা মুহূর্তের অনুভূতি নয়, বিপদ কেটে যাওয়ার পরও মস্তিষ্ক কীভাবে সেই সতর্কতাকে কিছুক্ষণ জিইয়ে রাখে, তার একটা নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক অঞ্চল।
সূত্র: Nautilus; September , 2026
