কোন চর্বি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় 

কোন চর্বি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১২ অক্টোবর, ২০২৬

শরীরের অতিরিক্ত চর্বি হৃদ্‌রোগ ও বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, সেটা আমরা জানি। কিন্তু ২০২৬ সালে নেচার রিভিউস কার্ডিওলজি-তে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় গবেষকেরা দেখিয়েছেন, শরীরে মোট কতটা চর্বি আছে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল চর্বি কোথায় জমছে এবং সেই চর্বির জৈবিক বৈশিষ্ট্য কেমন। হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়ার জন্য চর্বি বা অ্যাডিপোজ টিস্যু আসলে একটি সক্রিয় বিপাকীয় ও রোগপ্রতিরোধী অঙ্গ। শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে ভিসেরাল, সাবকিউটেনিয়াস ও এপিকার্ডিয়াল অ্যাডিপোজ টিস্যু—হরমোন, হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় রাসায়নিক সংকেত ও স্নায়ুর মাধ্যমে। এসব চর্বিতে প্রদাহ বাড়লে রক্তনালির ক্ষতি, হৃদ্‌যন্ত্রের গঠনগত পরিবর্তন এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল ভিসেরাল চর্বি, যা পেটের অভ্যন্তরে অঙ্গগুলির চারপাশে জমে। অন্যদিকে, হৃদ্‌যন্ত্রের চারপাশে থাকা এপিকার্ডিয়াল চর্বি সরাসরি হৃদ্‌পেশি ও করোনারি ধমনির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় স্থানীয় প্রদাহ ও হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই একই বডি-মাস ইনডেক্স যুক্ত দুই ব্যক্তির হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এক নাও হতে পারে।

গত পাঁচ বছরে সি টি, এম আর আই, ডুয়াল-এনার্জি এক্স-রে অ্যাবজর্বসিওমেট্রি (DEXA) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নতি ঘটায় শরীরের বিভিন্ন চর্বির পরিমাণ, ঘনত্ব, গুণমান ও বণ্টন আরও নির্ভুলভাবে মাপা সম্ভব হয়েছে। নতুন মাল্টিওমিক্স গবেষণাও দেখাচ্ছে, নির্দিষ্ট ধরনের চর্বির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে প্রদাহ ও হৃদ্‌রোগের বিভিন্ন জৈবিক পথের সম্পর্ক রয়েছে।

চর্বি জমার ধরন আবার বয়স, লিঙ্গ ও জাতিগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পূর্ব এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত কম বডি-মাস ইনডেক্স-এই ভিসেরাল ও এপিকার্ডিয়াল চর্বি বেশি জমতে পারে। ফলে শুধু বডি-মাস ইনডেক্স দিয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বিচার করা সবসময় যথেষ্ট নয়।

গবেষকেরা একক অ্যাডিপোজ টিস্যু মডেলের ধারণা দিয়েছেন। এতে শরীরের সব চর্বিকে আলাদা আলাদা অংশ হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে মোট চর্বির পরিমাণের চেয়ে তার জৈবিক আচরণ ও অবস্থান রোগের ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওজন কমানোর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি GLP-1 রিসেপ্টর অ্যগোনিস্ট-এর মতো ইনক্রেটিন হরমোন-ভিত্তিক ওষুধও চর্বি কমাতে পারে, বিশেষত ভিসেরাল চর্বি। ফলে স্থূলতাকে শুধু ওজনের সমস্যা নয়, বরং হৃৎপিণ্ডের একটি বিপাকীয় দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসাযোগ্য রোগ রোগ হিসেবে দেখার গুরুত্ব ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে।

সূত্র: Role of systemic and epicardial adipose tissue in cardiometabolic disease by Shaun Khanna, Gurkeerat Mann, Published on 16th June 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 1 =