মনে মনে কথা’ বদলে দিতে পারে মস্তিষ্কের কাজ!

মনে মনে কথা’ বদলে দিতে পারে মস্তিষ্কের কাজ!

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১২ অক্টোবর, ২০২৬

নিজের সঙ্গে আমরা সারাক্ষণই কথা বলি। কখনও নিজেকে উৎসাহ দিই, কখনও ভুলের জন্য দোষ দিই। কিন্তু এই ‘মনে মনে কথা’ শুধু মনের মধ্যেই আটকে থাকে না, তা প্রভাব ফেলতে পারে মস্তিষ্কের কাজ, আবেগ, মনোযোগ, প্রেরণা এবং নিজের সম্পর্কে আমাদের ধারণায়। গবেষণা বলছে, একই ধরনের চিন্তা বারবার করতে করতে মস্তিষ্কে কিছু স্নায়বিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় হতে থাকে। ফলে আমরা নিজের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলি, তা ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তা ও আচরণের অভ্যাসও গড়ে দিতে পারে। মস্তিষ্কের ছবি তুলে গবেষণা করে পাওয়া গেছে চমকপ্রদ ইঙ্গিত। ইতিবাচক আত্মকথন, যেমন নিজেকে নিজের যোগ্যতা বা মূল্য সম্পর্কে মনে করানো, এবং নেতিবাচক আত্মকথন, যেমন নিজেকেই কঠোরভাবে সমালোচনা করা- এগুলি কিন্তু মস্তিষ্কে একই ধরনের কার্যকলাপ তৈরি করে না। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই দুই ধরনের আত্মকথনের সঙ্গে প্রেরণা, পুরস্কার, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজের সম্পর্কে চিন্তার সঙ্গে যুক্ত মস্তিষ্কের নেটওয়ার্কে পার্থক্য তৈরি হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, একটা ইতিবাচক কথা বললেই মস্তিষ্ক ‘পুনর্গঠিত’ হয়ে যাবে। আবার মাঝে মধ্যে নিজেকে সমালোচনা করলেই মস্তিষ্কের ক্ষতি হবে, এমনও নয়। আসল বিষয় হল, আমরা নিজেদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলছি, মস্তিষ্ক তার প্রতিক্রিয়াও সেই অনুযায়ী বদলাতে পারে।

আরও আগ্রহের বিষয়, নিজের সঙ্গে কথা বলার ধরন সামান্য বদলালেও আবেগ সামলানো সহজ হতে পারে। যেমন, চাপের পরিস্থিতিতে বারবার ‘আমি পারব তো?’ না ভেবে নিজের নাম ধরে নিজেকেই সম্বোধন করা মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে কঠিন পরিস্থিতিকে একটু বেশি ঠান্ডা মাথায় বিচার করার সুযোগ মেলে। দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত নেতিবাচক আত্মকথন তাই একই চিন্তা বারবার ঘুরিয়ে দেখা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া বা হতাশার প্রবণতা বাড়াতে পারে। বিপরীতে, বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক আত্মকথন আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনও খতিয়ে দেখছেন, এই পরিবর্তনগুলি মস্তিষ্কে কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই বার্তা এমনটা নয় যে ‘সবসময় পজিটিভ থাকুন’। বরং নিজের ভুল স্বীকার করুন, কিন্তু ভুলকে নিজের পরিচয় বানাবেন না। ‘আমি ব্যর্থ’ বলার বদলে ‘আমি ভুল করেছি, এবার কীভাবে ঠিক করব?’- এই ছোট্ট পরিবর্তনই হয়তো মস্তিষ্ককে সমস্যা দেখার, আবেগ সামলানোর এবং পরের পদক্ষেপ ঠিক করার আরও স্বাস্থ্যকর পথ দেখাতে পারে।

 

সূত্র: Scientific Reports, “The effects of positive or negative self-talk on the alteration of brain functional connectivity by performing cognitive tasks.”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 1 =