সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক অদ্ভুত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আবিষ্কার করেছেন। যেখানে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচতে কখনও কখনও একটি ব্যাকটেরিয়াকে নিজের জীবনই বিসর্জন দিতে হয়। আত্মবিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সে রক্ষা করে আশপাশের অসংখ্য ব্যাকটেরিয়াকে। এক্ষেত্রে ডিএনএ বিষাক্ত প্রোটিনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, যা সংক্রমিত ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। গবেষণাটির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে মলিকিউলার সেল পত্রিকায়।
ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এমন ভাইরাসকে বলা হয় ব্যাকটেরিওফাজ বা সংক্ষেপে ফাজ। এদের হাত থেকে বাঁচতে ব্যাকটেরিয়ার শরীরে রয়েছে রেট্রন নামের বিশেষ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এত দিন বিজ্ঞানীরা জানতেন, কোষের মধ্যে আগে থেকেই তৈরি থাকা বিষাক্ত পদার্থকে রেট্রন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আটকে রাখে। ফাজ আক্রমণ করলে সেই বাধা সরে যায় এবং বিষাক্ত পদার্থটি সক্রিয় হয়ে ব্যাকটেরিয়াটিকে মেরে ফেলে। ফলে ভাইরাসটি বংশবিস্তার করার আগেই সংক্রমণ থেমে যেতে পারে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গ্ল্যাডস্টোন ইনস্টিটিউটসের গবেষকরা রেট্রনের এক নতুন শ্রেণি আবিষ্কার করেছেন, যার নাম টাইপ-৬ রেট্রন। এই ব্যবস্থায় ডিএনএ আগে থেকে তৈরি বিষকে নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং প্রয়োজনের সময় বিষাক্ত প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া চালু করে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞানী শেঠ শিপম্যান এবং প্রধান গবেষক ছিলেন কারেন ঝাং।
প্রথমে বিজ্ঞানীরা এই রেট্রনগুলিতে সাধারণত দেখা যাওয়া একসূত্রক ডিএনএ খুঁজে পাননি। ফলে তাঁদের মনে হয়েছিল, ব্যবস্থাটি হয়তো ঠিকমতো কাজ করছে না। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায়, টাইপ-৬ রেট্রন থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলিও ফাজের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
এরপর গবেষকরা ‘স্পেসার-সিক’ নামের একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এতে সংক্রমণ না থাকলেও কোষে অতি সামান্য পরিমাণে ডিএনএ তৈরি হওয়ার প্রমাণ মেলে। ফাজ আক্রমণ করলে এই ডিএনএর উৎপাদন অনেক বেড়ে যায়। ডিএনএটি একটি আরএনএ অণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষাক্ত প্রোটিন তৈরির ওপরকার বাধা সরিয়ে দেয়। ফলে প্রচুর বিষাক্ত প্রোটিন তৈরি হয়। এই ক্ষুদ্র প্রোটিন ব্যাকটেরিয়ার কোষপর্দায় ঢুকে সেটিকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং সংক্রমিত কোষটিকে ধ্বংস করে।
এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের চিকিৎসা ও জৈবপ্রযুক্তিকে নতুন পথের দিশা দেবে। রেট্রনের ডিএনএ তৈরি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আরও নিখুঁত জিন-সম্পাদনা প্রযুক্তি, রোগ শনাক্তকারী আণবিক সেন্সর এবং জিনের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ তৈরি করা যেতে পারে। পাশাপাশি, টাইপ-৬ রেট্রনের বিষাক্ত প্রোটিনকে কাজে লাগিয়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল চিকিৎসা তৈরির চেষ্টাও চলছে।
জীবজগতের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শুধু সংক্রমণ ঠেকানোর উপায় নয়, ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্যও এক মূল্যবান অনুপ্রেরণা।
সূত্র: https://scitechdaily.com/strangest-of-its-kind-scientists-uncover-a-bizarre-bacterial-self-destruct-switch/
