অবসাদ কমাবে লাফিং গ্যাস 

অবসাদ কমাবে লাফিং গ্যাস 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

অবসাদ বড়ই জটিল মনোকষ্ট । এ যেন এক দীর্ঘ, ক্লান্তিকর অন্ধকারময় যাত্রা যেখানে বহু মানুষ দিনের পর দিন ওষুধ বদলান, বিভিন্ন থেরাপি করান, তবু সুস্থ জীবনের আলোর হদিস পান না। বিশেষ করে যাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অবসাদরোধক ওষুধ কাজ করে না, সেইসব ডিপ্রেশনের রোগীদের জন্য আশা প্রায়ই ফুরিয়ে আসে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই উঠে আসছে এক অভিনব সম্ভাবনা। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) বা “লাফিং গ্যাস” নামে পরিচিত গ্যাসটি এক নিঃশ্বাসেই কমিয়ে দিতে পারে মনের ভার।

২০২৫ সালের ৩০শে নভেম্বর ই-বায়োমেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত এই ব্যাপ্ত-বিশ্লেষণটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের নেতৃত্বে এক গবেষক দল। তাঁরা বিশ্বজুড়ে পরিচালিত সাতটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও চারটি গবেষণা প্রোটোকল বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শ্বাসের মাধ্যমে দেওয়া নাইট্রাস অক্সাইড গুরুতর ডিপ্রেশন ও চিকিৎসা প্রতিরোধী ডিপ্রেশনে স্বল্পমেয়াদে উল্লেখযোগ্য উপকার করতে পারে।

চিকিৎসা প্রতিরোধী ডিপ্রেশন বলতে বোঝায় এমন অবস্থা, যেখানে অন্তত দুই ধরনের অবসাদরোধক ওষুধ কাজ করে না। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ রোগী প্রচলিত চিকিৎসা থেকে অল্প উপকার পান। সে কারণেই প্রয়োজন হয়ে পড়ে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির।

তবে গবেষকরা এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, একবারের চিকিৎসা এক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। দেখা গেছে ৫০ শতাংশ ঘনত্বে একবার নাইট্রাস অক্সাইড গ্রহণের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিষণ্ণতার উপসর্গ বেশ আশানুরূপ মাত্রায় কমে যায়। কিন্তু এক ডোজের প্রভাব সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিকে হয়ে যায়। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়ন্ত্রিতভাবে একাধিকবার ডোজ দিলে উপকার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ, এটি একবারের সমাধান নয়— নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নাইট্রাস অক্সাইড মস্তিষ্কের গ্লুটামেট সংকেত দানের কাজ করে।কেটামিনের মতো দ্রুত-কার্যকর অবসাদরোধকও ঐ একই পথ ব্যবহার করে। এই স্নায়ুবৈজ্ঞানিক প্রভাবই সম্ভবত এত দ্রুত মনমেজাজের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।

এক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো তুলনামূলকভাবে মৃদু। হালকা বমিভাব, মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা অল্প সময়ের মধ্যেই কেটে যায়। তবুও গবেষকেরা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য আরও বড় ও দীর্ঘ গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে লাফিং গ্যাস ভবিষ্যতে অবসাদের দ্রুত-কার্যকর চিকিৎসার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে – বিশেষত তাদের জন্য, যাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছে। এখন লক্ষ্য, এই সম্ভাবনাকে নিরাপদ ও কার্যকর বাস্তব চিকিৎসায় রূপ দেওয়া।

 

সূত্র: Nitrous oxide for the treatment of depression: a systematic review and meta-analysis by Kiranpreet Gill, Angharad N. de Cates, et.al; Materials provided by University of Birmingham, published in eBioMedicine, 2025; 106023 DOI: 10.1016/j.ebiom.2025.106023

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × five =