অস্কার ক্লেইন পদক পেলেন অশোক সেন

অস্কার ক্লেইন পদক পেলেন অশোক সেন

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

স্ট্রিং থিয়োরি ও কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০২৬ সালের অস্কার ক্লেইন পদক পেলেন বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী অশোক সেন। এই প্রথম একজন ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানী এ সম্মান পেলেন।মহাবিশ্বের মৌলিক কণাগুলি কী দিয়ে তৈরি? মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মকে কি একই কাঠামোয় ব্যাখ্যা করা সম্ভব? আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম কঠিন প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে যে তাত্ত্বিক কাঠামো নিয়ে গবেষণা চলছে, তার নাম স্ট্রিং থিয়োরি। এই ক্ষেত্রেই অশোক সেনের কাজ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিয়োরেটিক্যাল সায়েন্সেস (আইসিটিএস) এই পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছে। সুইডিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী অস্কার ক্লেইনের নামে ১৯৮৮ সালে চালু হয় এই পদক। স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় ও রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের নোবেল পদার্থবিজ্ঞান কমিটি যৌথভাবে এই সম্মান প্রদান করে। পদার্থবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এই পদক এর আগে পেয়েছেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী চেন-নিং ইয়াং, স্টিভেন ওয়াইনবার্গ ও হান্স বেথে। স্ট্রিং থিয়োরির ধারণাটি বেশ অভিনব। সাধারণভাবে মৌলিক কণাকে অতি ক্ষুদ্র বিন্দু হিসেবে ভাবা হয়। কিন্তু স্ট্রিং তত্ত্বে কণার বদলে কল্পনা করা হয় অত্যন্ত ক্ষুদ্র, একমাত্রিক কম্পনশীল সুতোর। এই সুতোর কম্পনের ধরন বদলালে বিভিন্ন কণার বৈশিষ্ট্যও আলাদা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই ধারণার সাহায্যে প্রকৃতির মৌলিক বল ও কণাগুলিকে একটি অভিন্ন তাত্ত্বিক কাঠামোয় বোঝার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে মহাকর্ষের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে এই তত্ত্বের গুরুত্ব রয়েছে। তবে এর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। এই জটিল তত্ত্বের বিকাশে অশোকবাবুর অবদান একাধিক ক্ষেত্রে। তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ‘এস-ডুয়ালিটি’, কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপির নির্ভুল গণনা এবং স্ট্রিং ফিল্ড থিয়োরি।

সহজভাবে বললে, এস-ডুয়ালিটি এমন একটি ধারণা, যা দেখায়, দুটি আপাতদৃষ্টিতে আলাদা তাত্ত্বিক বর্ণনার আড়ালে একই ভৌত বাস্তবতা থাকতে পারে। অন্যদিকে, এনট্রপি হল কোনও ব্যবস্থার সম্ভাব্য অণুবীক্ষণিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি পরিমাপ। কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপি নির্ণয়ের মাধ্যমে তার অভ্যন্তরীণ গঠন ও কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভের চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। এই গবেষণা আধুনিক স্ট্রিং থিয়োরিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। অস্কার ক্লেইন পদক অবশ্য সেন মহাশয়ের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান নয়। ২০১২ সালে তিনি পান ব্রেকথ্রু পুরস্কার, ২০১৪ সালে ডিরাক পদক। এ ছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ইনফোসিস পুরস্কার, শান্তি স্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার এবং পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ। ১৯৯৮ সালে তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। আইসিটিএসের অধিকর্তা রাজেশ গোপকুমার সেনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ওই প্রতিষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ও কাজ উৎকর্ষের পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২২ অক্টোবর ২০২৬, স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবানোভা কেন্দ্রে ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতাও দেন অশোক সেন। মহাবিশ্বের সব নিয়মকে এক সূত্রে বাঁধা সম্ভব কি না, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনও অজানা। তবে সেই উত্তরের সন্ধানে অশোক সেনের গবেষণা আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

 

 

সূত্র: International Centre for Theoretical Sciences (ICTS); Deccan Herald.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 4 =