সাধারণ ধারণা হল, দুটি বস্তু যদি একে অপরকে আকর্ষণ করে, তাহলে তারা ধীরে ধীরে কাছে এসে একসময় মিলিত হবে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোষের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র আণবিক ফোঁটাগুলি কখনও কখনও একে অপরকে যেন ‘ধাওয়া’ করতে শুরু করে। আর এই ঘটনা ঘটে শুধুমাত্র আকর্ষণ বলের কারণে, কোনও বিকর্ষণ বল ছাড়াই। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট-এর গবেষকরা কোষের ভেতরে থাকা ‘মলিকিউলার কনডেনসেট’ বা আণবিক ঘনীভবনের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেন। প্রোটিন, আরএনএ ও অন্যান্য জৈব অণুর সমাহারে তৈরি এই ক্ষুদ্র তরলসদৃশ ফোঁটাগুলিকে এতদিন স্থির বলে মনে করা হত। ধারণা ছিল, দুটি কনডেনসেট কাছাকাছি এলে তারা একত্রিত হয়ে বড় একটি ফোঁটা তৈরি করে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একটি কনডেনসেট অন্যটির পিছু নিতে শুরু করতে পারে। গবেষকরা এই আচরণকে “রান-অ্যান্ড-চেজ” বা ‘পিছু ধাওয়া করা’ বলে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মূলে আছে দুটি কনডেনসেটের আকার, আকৃতি বা রাসায়নিক সক্রিয়তার সূক্ষ্ম পার্থক্য। ফলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক সমান থাকে না। বিজ্ঞানীরা একে “ননরেসিপ্রোকাল ইন্টারঅ্যাকশন” বা একমুখী পারস্পরিক ক্রিয়া বলছেন। অর্থাৎ, একটি কনডেনসেট অন্যটির ওপর যতটা প্রভাব ফেলে, বিপরীত দিকে ঠিক ততটা প্রভাব পড়ে না। এর ফলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে গতির সৃষ্টি হয়। গবেষকদের মতে, কোষ কীভাবে নিজের বিভিন্ন অংশকে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার নতুন দিশা দেখাতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন কৃত্রিম আণবিক যন্ত্র তৈরিতেও সাহায্য করতে পারে, যা বাইরের কোনও মোটর বা শক্তির উৎস ছাড়াই নিজে নিজে চলাচল করতে সক্ষম হবে। কোষের ভেতরে অণুগুলির এই অপ্রত্যাশিত ‘পিছু ধাওয়া’ তাই শুধু যে জীবনের মৌলিক রহস্যই উন্মোচন করছে তা নয়, ভবিষ্যতের জৈবপ্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনাও সামনে আনছে।
সূত্র: Theory of Everything; June ; 2026
