মানুষের চোখ কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা পৌঁছে গিয়েছেন এক বিস্ময়কর আবিষ্কারে। গবেষণা বলছে, আমাদের প্রায় ৬০ কোটি বছর আগের এক পূর্বপুরুষ ছিল কৃমিসদৃশ এক প্রাণী, যার মাথার মাঝখানে ছিল মাত্র একটি চোখ। সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিভিন্ন প্রাণীর আলোক-সংবেদি গ্রাহী কোষের বিবর্তন বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাঁদের মতে, এই একচোখো পূর্বপুরুষের আবার একসময় দুটি পার্শ্বীয় চোখও ছিল। কিন্তু সমুদ্রতলে স্থির থেকে খাদ্য ছেঁকে খাওয়া বা ফিল্টার-ফিডার জীবনযাত্রা গ্রহণ করার পর সেই চোখ দুটির প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় এবং সেগুলি হারিয়ে যায়। তবে প্রাণীটি পুরোপুরি অন্ধ হয়নি। মাথার মাঝখানে থাকা আলোক-সংবেদি গ্রাহী কোষগুলির একটি অংশ টিকে ছিল। পরে তার উত্তরসূরিরা আবার সক্রিয়ভাবে সাঁতার কাটা জীবনযাত্রায় ফিরে এলে সেই কোষগুলির থেকেই নতুন করে দুটি চোখের উদ্ভব ঘটে। একই সঙ্গে এমন আলোক গ্রাহী প্রোটিনের বিকাশ হয়, যা আলোকে দ্রুত বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করতে পারে। এর ফলে গড়ে ওঠে উন্নত দৃষ্টিশক্তি। গবেষণাটি আরও ব্যাখ্যা করেছে কেন মানুষের চোখ পোকামাকড় বা স্কুইডের চোখের থেকে এত আলাদা। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের চোখের রেটিনা আসলে মস্তিষ্কের অংশ থেকেই বিকশিত হয়েছে, অথচ পোকামাকড় ও স্কুইডের চোখ তৈরি হয়েছে মাথার দুই পাশের ত্বকজাত কোষ থেকে। সেই প্রাচীন একচোখো পূর্বপুরুষের আলোক-সংবেদি অঙ্গটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের পথে সেটিই রূপান্তরিত হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থিতে। আজও এই গ্রন্থি মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ করে আমাদের ঘুম-জাগরণের জৈব ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ, আমাদের শরীরে এখনও বেঁচে রয়েছে ৬০ কোটি বছর আগের সেই একচোখো পূর্বপুরুষের উত্তরাধিকার।
সূত্র: Nautilus Magazine ; June ; 2026
