আর্টেমিস-২ এর সাফল্যকে ঘিরে বিতর্ক 

আর্টেমিস-২ এর সাফল্যকে ঘিরে বিতর্ক 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

নাসার নেতৃত্বে পরিচালিত আর্টেমিস-২ মিশনের সফল সমাপ্তি বিশ্বজুড়ে চাঁদে মানুষের পুনরাগমন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আগ্রহ দুইই তৈরি করেছে। এই ঐতিহাসিক অভিযানে মহাকাশচারীরা নিরাপদে চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। এটি নিঃসন্দেহে আধুনিক মহাকাশ অনুসন্ধানের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ।

প্রায় ১০ দিনব্যাপী এই মিশনটি প্রায় ৭ লক্ষ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। এতে ব্যবহৃত ওরিয়ন স্পেস ক্র্যাফট এবং স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট অত্যন্ত নির্ভুলভাবে কাজ করেছে। মিশন চলাকালীন খুব কমই সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছিল। ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণসহ আরও জটিল অভিযানের জন্য প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দেয় এই অভিযান। এই সাফল্য মূলত ভবিষ্যতের মানববাহী চন্দ্রাভিযানের ভিত্তিকে আরও মজবুত করেছে।

আগামী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আর্টেমিস-৩, যা সম্ভবত আগামী বছরেই মানুষের চাঁদে অবতরণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ১৯৬৯ সালের আপেল-১১ মিশনের পর এটিই হবে মানুষের প্রথম চাঁদে পদার্পণ। তবে আর্টেমিস প্রোগ্রামের লক্ষ্য শুধু একবার চাঁদে যাওয়া নয়, বরং সেখানে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি তৈরি করা। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদের কক্ষপথে এবং পৃষ্ঠে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর মহাকাশ অভিযানের পথ দেখাবে।

তবে এই যাত্রা নির্বিরোধ নয়। সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, এই প্রকল্পের বিপুল ব্যয় বর্তমান পৃথিবীর সংকট, বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সমস্যা ও বৈষম্য মোকাবিলায় ব্যয় করা অধিক যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি, মহাকাশ অভিযানের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সমর্থকরা যুক্তি দেন যে চাঁদে ফিরে যাওয়া শুধু বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নয়, এ এক নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, যা মানবজাতিকে অনুপ্রাণিত করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে অভিযান চালানোর বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের পথ তৈরি করে।

আর্টেমিস-২ এর সাফল্য মানবজাতির মহাকাশ যাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এনেছে : আমরা কি সত্যিই আবার চাঁদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ? এবং তার প্রকৃত মূল্যই বা কত?

 

সুত্র: Theory of everything

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 2 =