স্বয়ংচালিত গাড়ি, হিউম্যানয়েড রোবট ও স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থায় কৃত্রিম দৃষ্টিশক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও হঠাৎ তীব্র আলো, গভীর ছায়া বা অসম আলোর পরিবেশে বর্তমান প্রযুক্তি প্রায়ই ব্যর্থ হয়। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে চীনের ইউনিভার্সিটি অব ইলেকট্রনিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এক নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছেন। এটি মানুষের চোখের মতো নিজে থেকেই আলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। মানুষের চোখ ক্ষীণ থেকে অত্যন্ত উজ্জ্বল আলো, দুই পরিস্থিতিতেই দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ কৃত্রিম দৃষ্টি ব্যবস্থার এই ক্ষমতা নেই। আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক সার্কিট ও জটিল কম্পিউটার অ্যালগরিদমের প্রয়োজন হয়, যা বিদ্যুৎ খরচ ও যন্ত্রের জটিলতা বাড়ায়। এই সমস্যার সমাধানে গবেষকেরা তৈরি করেছেন অ্যাডাপটিভ ফোটোমেমরিস্টর নামের একটি নতুন ডিভাইস। এটি আলো ও বৈদ্যুতিক সংকেতের প্রভাবে নিজের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে পারে এবং আগের অবস্থাও মনে রাখতে সক্ষম। ডিভাইসটি তৈরি হয়েছে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড (TiO₂) ও পরিবাহী পলিমার PEDOT:PSS দিয়ে। আলো শোষণের পর সৃষ্ট তাপের কারণে পলিমারের পরিবাহিতা বদলে যায়। ফলে তীব্র আলোয় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবেদনশীলতা কমায়, আবার কম আলোয় তা বাড়িয়ে দেয়, অনেকটা মানুষের চোখের মণির মতো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিউরাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করলে এই প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল আলোর পরিবেশেও ৯১.৩ শতাংশ নির্ভুলতায় ছবি শনাক্ত করতে পেরেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সার্কিট ও জটিল রিয়েল-টাইম প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন না থাকায় বিদ্যুৎ খরচও কমে। প্রধান গবেষক জিয়া ঝুরের মতে, এই প্রযুক্তি রাতে হেডলাইটের ঝলকের মধ্যেও পথচারী, লেন চিহ্ন ও ট্রাফিক সিগন্যাল শনাক্ত করে স্বয়ংচালিত গাড়ির নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। এছাড়া হিউম্যানয়েড রোবট, ড্রোন, স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থা ও বহনযোগ্য ভিশন ডিভাইসেও এর ব্যবহার সম্ভব। গবেষকেরা এখন এই প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন এবং সম্পূর্ণ বায়োনিক কৃত্রিম চোখ তৈরির কাজ করছেন। সফল হলে মানুষের চোখের মতো পরিবেশ বুঝে নিজে থেকেই মানিয়ে নিতে সক্ষম নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম দৃষ্টিব্যবস্থা বাস্তবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
সূত্র: physicsworld.com, 8 July 2026
