আলোর গতিতে ব্রেক কষা! 

আলোর গতিতে ব্রেক কষা! 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শূন্যস্থানে আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার। তাকে কি থামানো যায়? শুনতে অসম্ভব মনে হলেও, বিজ্ঞানী লেন হাউ, আলোর গতি কমিয়ে দিতে পেরেছেন। তাঁর পরীক্ষায় আলোর গতিকে একটি সাইকেলের গতির কাছাকাছি নামিয়ে আনতে পেরেছিলেন। আসলে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছিলেন এক অদ্ভুত কোয়ান্টাম পরিবেশ। সোডিয়াম পরমাণুগুলিকে অত্যন্ত ঠান্ডা করে পরম শূন্য তাপমাত্রার প্রায় কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এত ঠান্ডায় পরমাণুগুলি আর আলাদা আলাদা ভাবে আচরণ করতে পারছিল না। তারা যেন একসঙ্গে একটি কোয়ান্টাম সিস্টেম হিসেবে কাজ করতে শুরু করে। এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট’। এবার অতি শীতল পরমাণুর মধ্যে তাঁরা একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লেজার আলো পাঠান। ফলে তৈরি হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক্যালি ইন্ডিউসড ট্রান্সপারেন্সি (EIT) নামে একটি কোয়ান্টাম প্রভাব। সহজ ভাষায়, এই প্রক্রিয়ায় পরমাণুগুলির সঙ্গে আলোর যেন এক ধরনের ‘খেলা’ শুরু হয়, যার ফলে আলোর গতি নাটকীয় ভাবে কমে যায়। এবার দ্বিতীয় একটি আলোক-স্পন্দন সেই ঠান্ডা পরমাণুর মেঘের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় তার গতি প্রায় ২ কোটি গুণ কমে যায়। যে আলো সাধারণত চোখের পলকে প্রতি সেকেন্ডে কয়েক লক্ষ কিলোমিটার ছুটে যায়, সেটিই তখন নেমে আসে ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ মাইল, অর্থাৎ সেকেন্ডে প্রায় ১৭ মিটার গতিতে! এর পর বিজ্ঞানীরা আলোর একটি স্পন্দনকে কার্যত থামিয়ে দেন। আলোর সঙ্গে থাকা ইনফরমেশনটিকে সাময়িক ভাবে ওই ঠান্ডা পরমাণুগুলির মধ্যে ধরে রাখা হয়। পরে সেই তথ্য থেকেই আবার আলোর স্পন্দন তৈরি করা হয় এবং আলো ফের চলতে শুরু করে। অর্থাৎ, আলোকে শুধু ধীর করাই নয়, তার মধ্যে থাকা তথ্যকে যেন কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে রেখে পরে আবার চালু করা সম্ভব হয়েছিল। এর পরে পরীক্ষাটি আরও এক ধাপ এগোয়। একটি অতি ঠান্ডা পরমাণুর মেঘে থামিয়ে রাখা আলোর তথ্যকে চলন্ত পদার্থ-তরঙ্গে রূপান্তর করা হয়। সেই তথ্যকে পরে কাছাকাছি থাকা আরেকটি ঠান্ডা পরমাণুর মেঘে পৌঁছে আবার আলোর রূপে ফিরিয়ে আনা হয়। বুঝতে হবে, বিজ্ঞানীরা কিন্তু আলোর আসল গতি বদলে দেননি। শূন্যস্থানে আলোর গতি এখনও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২,৯৯,৭৯২ কিলোমিটারই। তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন বিশেষভাবে তৈরি একটি মাধ্যমকে- যার মধ্যে দিয়ে আলোর চলার ধরন ও গতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই গবেষণা ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম যোগাযোগ, তথ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কোয়ান্টাম প্রযুক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

সূত্র: Harvard University; Nature

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − eleven =