২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক অসাধারণ আবিষ্কারের কথা জানান। নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমায়েল মিরেলেসের নেতৃত্বে প্রকাশিত গবেষণায় এমন একটি গ্রহমণ্ডল শনাক্ত হয়েছে যার কক্ষপথ অত্যন্ত দ্রুত বদলায়। এত দ্রুত যে একজন মানুষের জীবদ্দশাতেই সেই পরিবর্তন ধরা পড়ছে। এই গ্রহমণ্ডলের নাম TOI-201। পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৭০ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই ব্যবস্থায় একটি সূর্যের মতো নক্ষত্রকে ঘিরে তিনটি ভিন্ন ধরনের জ্যোতিষ্ক ঘুরছে। সবচেয়ে ভেতরে রয়েছে একটি পাথুরে মহাপৃথিবী, যার আকার পৃথিবীর প্রায় ১.৪ গুণ। এটি মাত্র ৫.৮৫ দিনে একবার নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে। দ্বিতীয় বস্তুটি TOI-201 b এটি এক ধরনের উষ্ণ বৃহস্পতি। এর ভর বৃহস্পতির প্রায় অর্ধেক এবং এটি ৫৩ দিনে একবার কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে। সবচেয়ে বাইরের ও ভারী বস্তুটি TOI-201 c—একটি ব্রাউন ডোয়ার্ফ। এটি বৃহস্পতির চেয়ে প্রায় ১৬ গুণ বেশি ভারী। এর কক্ষপথ দীর্ঘ ও ডিম্বাকৃতি, যা সম্পূর্ণ করতে লাগে প্রায় ৭.৯ বছর। এই সিস্টেমের বিশেষত্ব হলো, তিনটি বস্তু একই সমতলে ঘুরছে না। তাদের কক্ষপথ ভিন্ন ভিন্ন কোণে হেলে আছে। ফলে বাইরের ব্রাউন ডোয়ার্ফের মহাকর্ষ ভেতরের গ্রহগুলিকে ক্রমাগত টানছে এবং ধীরে ধীরে তাদের কক্ষপথ বদলে দিচ্ছে। নাসার TESS মহাকাশযান এবং অ্যান্টার্কটিকার ASTEP দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা দেখেন, উষ্ণ বৃহস্পতিটি নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট পরে আসে। এই বিলম্বই প্রমাণ করে, গ্রহগুলির কক্ষপথ সত্যিই বদলাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এমন গ্রহমণ্ডল খুবই বিরল যেখানে মানুষের এক জীবনের সময়সীমার মধ্যেই কাঠামোগত পরিবর্তন সরাসরি দেখা যায়। মডেল অনুযায়ী, প্রায় ২০০ বছর পরে মহাপৃথিবীটিকে আর পৃথিবী থেকে নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যেতে দেখা যাবে না। ভবিষ্যতে অন্য জ্যোতিষ্কগুলির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। সহজ কথায়, আমরা এই প্রথম দূরের এক গ্রহমণ্ডলকে ধীরে ধীরে নিজেকে নতুনভাবে সাজাতে দেখছি।
সূত্র: Science Simplified; April; 2026.
