খাবারের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি খাবার টেবিলে সঙ্গীর উপস্থিতিও শরীরের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একা খাওয়ার বদলে প্রিয়জনের সঙ্গে শর্করাজাতীয় খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা তুলনামূলক কম বাড়ে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শির আতজিল ও গবেষক মনিয়া মাসালহা, গবেষণাটি পরিচালনা করেন শেবা মেডিক্যাল সেন্টারের শাই ফুকসের সহযোগিতায়। গবেষণার ফলাফল বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স অ্যাডভান্সেস পত্রিকায়।
একাধিক পরিকল্পিত পরীক্ষায় গবেষকেরা দেখেন, একই ধরনের খাবার খাওয়া সত্ত্বেও সঙ্গে কেউ থাকলে শরীরের প্রতিক্রিয়া বদলে যায়। শুধু রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ নয়, ঠান্ডা পরিবেশে শরীরের তাপমাত্রা সামলানো এবং প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের শারীরিক চাপের প্রতিক্রিয়াতেও সামাজিক সান্নিধ্যের প্রভাব দেখা যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এই উপকারের জন্য শারীরিক স্পর্শের প্রয়োজন হয়নি। আবার, এর কারণ কেবল মানসিক চাপ কমে যাওয়া নয়।
গবেষকেরা এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘সোশ্যাল ফিজিওলজি’ বা সামাজিক শারীরবৃত্ত। তাঁদের মতে, মানুষের শরীরকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অন্য মানুষের উপস্থিতিও শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রিয়জনের সান্নিধ্যে শরীর বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে, ফলে শক্তির খরচও কমতে পারে।
রক্তে শর্করার সমস্যা বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য-উদ্বেগের বিষয়। এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, সুস্থতার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কও বিবেচনার দাবি রাখে।
অর্থাৎ, একসঙ্গে খাওয়া শুধু সম্পর্কের বন্ধনই দৃঢ় করে না, শরীরের সুস্থতাও বজায় রাখে।তবে প্রিয়জনের সঙ্গে খাওয়া সুষম খাদ্য, ব্যায়াম কিংবা চিকিৎসার বিকল্প নয়; গবেষণার ফলাফল আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্র: https://scitechdaily.com/scientists-find-a-surprising-blood-sugar-benefit-to-eating-with-a-loved-one/
