এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ার একাধিক দেশে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস-এর প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারত, ভিয়েতনাম, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, বাংলাদেশ, ফিলিপিন্স ও মালয়েশিয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় গড়ে ১৩ গিগাওয়াট কমেছে। সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে ভারতে, যেখানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ৬.৩ গিগাওয়াট। ভিয়েতনামে কমেছে ৪.৬ গিগাওয়াট। এই দুই দেশই মোট পতনের ৮০ শতাংশেরও বেশি অংশের জন্য দায়ী। এল নিনো হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এতে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়। ফলত এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, কম বর্ষা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে জলাধারে জলের প্রবাহ কমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের গবেষক আন্দ্রে ল্যামবিন বলেন, ২০২৬ সালের জুনে এশিয়া এক মাসেই প্রায় ১৩ গিগাওয়াট নমনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়েছে। জলবিদ্যুৎ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে দেশগুলোকে বেশি করে কয়লা ও গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি এশিয়ার জ্বালানি রূপান্তরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতে জুন মাসে বিদ্যুতের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ২৪.৩ গিগাওয়াট বেড়েছে। একই সময়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০.৭ গিগাওয়াট বাড়ানো হয়েছে। যদিও সৌর ও বায়ুশক্তি থেকেও অতিরিক্ত ৯.৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। ভিয়েতনামেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে বিদ্যুতের চাহিদা ৬.১ গিগাওয়াট বাড়লেও জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ৪.৬ গিগাওয়াট। ঘাটতি পূরণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৭.১ গিগাওয়াট বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ফিলিপিন্সে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিকের নীচে থাকতে পারে। শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কয়লা ও এলএনজির উপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কিছুটা কমে এলেও, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে এশিয়ার বিদ্যুৎবাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে আবহাওয়া, বিশেষ করে এল নিনো।
সূত্র: Down to Earth ; July ; 2026
