কৃত্রিম চিনির ভবিষ্যৎ কুপ্রভাব

কৃত্রিম চিনির ভবিষ্যৎ কুপ্রভাব

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

আমরা চিনির বদলি হিসেবে যে কৃত্রিম মিষ্টি পদার্থ ব্যবহার করি, তা শুধু আমাদের শরীরেই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরে চিনির পরিমাণ কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই আজকাল ‘সুগার-ফ্রি’ বা ‘লো-ক্যালোরি’ মিষ্টি ব্যবহার করেন, যথা সুক্রালোজ ও স্টেভিয়া। নতুন গবেষণা বলছে, এই ধরনের কৃত্রিম মিষ্টি আমাদের শরীরের ভেতরের জটিল জীববৈজ্ঞানিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের অন্ত্রের ভেতরে অসংখ্য উপকারী জীবাণুসমষ্টি বা ‘গাট মাইক্রোবায়োম’রয়েছে। আমাদের হজম প্রক্রিয়া, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক প্রক্রিয়ার সঙ্গে এগুলি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কৃত্রিম মিষ্টি পদার্থ এই মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, এই কৃত্রিম মিষ্টিগুলো আমাদের শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনের কার্যকলাপকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যেসব জিন বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ও প্রদাহের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এই ধরনের পরিবর্তন ভবিষ্যতে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণাটি মূলত ইঁদুরের উপর করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, যেসব ইঁদুরকে কৃত্রিম মিষ্টি খাওয়ানো হয়, তাদের শরীরে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সূক্ষ্ম সমস্যা তৈরি হয়েছে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের এই ব্যাঘাতকে অনেক সময় ইনসুলিন প্রতিরোধের প্রাথমিক লক্ষণ বলা যেতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। অদ্ভুতভাবে এই প্রভাব শুধু ঐ ইঁদুরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। অথচ সেই প্রজন্ম কিন্তু সরাসরি কৃত্রিম মিষ্টি পদার্থ গ্রহণ করেনি। অর্থাৎ, প্রভাবটি প্রজন্মান্তরে বাহিত হতে পারে। এটাই ভাবনার। এদের মধ্যে সুক্রালোজের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ছিল। এতে অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধি এবং জিনের কার্যকলাপে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন দেখা যায়। অন্যদিকে, স্টেভিয়ার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম এবং দ্রুত কমে গেছে। ইঁদুরের উপর করা গবেষণার ফলাফল সবসময় মানুষের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবু সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। ততদিন পর্যন্ত সতর্কতা হিসেবে কৃত্রিম মিষ্টি সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

সূত্র: “Artificial and natural non-nutritive sweeteners drive divergent gut and genetic responses across generations” by Francisca Concha Celume, Francisco Pérez-Bravo, Fabien Magne, Ricardo Olivares and Martin Gotteland, 30 January 2026, Frontiers in Nutrition.

DOI: 10.3389/fnut.2026.1694149

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 1 =