ক্যানসার বললেই আমাদের মাথায় আসে জিনগত কারণ, ধূমপান, অ্যালকোহল এবং দূষণজনিত কারণ। কিন্তু এর নেপথ্যে আরও এক কারণ রয়েছে, সংক্রমণ। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত প্রায় ২৩ লক্ষ নতুন ক্যানসারের নেপথ্যে ছিল সংক্রমণ। আর এই বিপুল সংখ্যক সংক্রমণের জন্য দায়ী মূলত পাঁচটি সংক্রামক জীবাণু। প্রায় প্রায় ৭.৬ লক্ষ ক্যানসারে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরাই-এর দাপট লক্ষ্য করা গেছে। এরা পাকস্থলীতে বছরের পর বছর চুপচাপ বাসা বেঁধে থাকতে পারে। দীর্ঘদিনের সংক্রমণে আসে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি। আর রয়েছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। প্রায় ৭.৫ লক্ষ ক্যানসারের সঙ্গে এই ভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে। জরায়ুমুখের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ এই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। শুধু তাই নয়, পায়ু, যৌনাঙ্গ এবং মাথা-গলার কিছু ক্যানসারও এই ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস-এর দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ লিভারে ক্রমাগত যে প্রদাহ তৈরি করে সেখান থেকেই বাড়ে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি। আর এপস্টিন-বার ভাইরাস -এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কয়েক ধরনের লিম্ফোমা আর নাক ও গলনালীর ক্যানসারের। তবে আশার কথা, সংক্রমণজনিত অনেক ক্যানসার ঠেকানো সম্ভব। যেমন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসএবং হেপাটাইটিস বি-র বিরুদ্ধে রয়েছে কার্যকর টিকা। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে জরায়ুমুখে ক্যানসার হওয়ার আগেই অস্বাভাবিক কোষ শনাক্ত করা যায়। উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরাই-এর মোকাবেলা করা সম্ভব। অন্যদিকে আধুনিক অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসায় হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণ এবং হেপাটাইটিস সি বেশীরভাগই সারিয়ে তোলা যায়। অর্থাৎ, ক্যানসার ঠেকানোর লড়াইএর লক্ষ্য শুধু ক্যানসার নয়- সংক্রমণও হওয়া উচিত। টিকা, পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ যত বাড়বে, ততই সংক্রমণ জাত বিপুল সংখ্যক ক্যানসার কমানো সম্ভব হবে ।
সূত্র: International Agency for Research on Cancer (IARC/WHO), The Lancet Oncology, 2026.
