এতদিন আমাদের ধারণা ছিল, একবার হার্ট অ্যাটাক হলে হৃদপেশীর যে কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়, সেগুলো আর কখনও তৈরি হয় না। কিন্তু সম্প্রতি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের হৃদপেশীর কোষ সংখ্যায় সীমিত হলেও পুনরায় জন্মায়।
এই গবেষণাটি বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে সার্কুলেশন রিসার্চ জার্নালে। সেখানে বিজ্ঞানীরা এই প্রথম প্রমাণ করেছেন যে হার্ট অ্যাটাকের পর মানুষের হৃদপেশীতে কোষ বিভাজন বা মাইটোসিসের হার বেড়ে যায়। এতদিন এই ঘটনা বিশেষ করে ইঁদুরের ক্ষেত্রে পরীক্ষানিরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার মানুষের শরীরেও তার বাস্তব প্রমাণ মিলল। গবেষণা পত্রের প্রধান লেখক রবার্ট হিউম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্রে নতুন কোষ তৈরি হয় ঠিকই, তবে তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। তবে এটিই ভবিষ্যতের চিকিৎসার নতুন দিক নির্দেশ করছে।
এই গবেষণার বিশেষ দিক হলো এর পদ্ধতিগত প্রয়োগে। বিজ্ঞানীরা জীবিত রোগীদের হৃদযন্ত্র থেকে সরাসরি কোষকলা সংগ্রহ করেছেন। হার্ট বাইপাস সার্জারির সময় সংগৃহীত এই নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা সুস্থ ও অসুস্থ উভয় অংশের পার্থক্য বুঝতে পেরেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি উন্নয়নে বিশেষ অবদান রয়েছে পল বানন এবং শন লাল-এর।
পরিসংখ্যান বলছে, একটি হার্ট অ্যাটাকে হৃদযন্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যদিও আধুনিক চিকিৎসায় মৃত্যুহার কমেছে, তবুও অনেক রোগীরই পরবর্তীতে হার্ট ফেইলিওর হয়। বর্তমানে এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন, যা সবার সাধ্যের মধ্যে নেই।
সেকারণেই এই আবিষ্কার নতুন আশার আলো হিসেবেই সবার নাগালের মধ্যে আসতে চলেছে। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে এমন কিছু প্রোটিন শনাক্ত করেছেন, যা হৃদপেশীর কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। হয়তো ভবিষ্যতে এমন ওষুধ বা থেরাপি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের এই স্বাভাবিক পুনর্জনন ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলবে।
মানুষের হৃদযন্ত্র পুরোপুরি অক্ষম নয়, তার মধ্যে নিজেকে আংশিকভাবে মেরামত করার ক্ষমতা লুকিয়ে আছে। এখন বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য এই প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এমন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা, যা হার্ট অ্যাটাকের পর ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে।
সূত্রঃ “Human Hearts Intrinsically Increase Cardiomyocyte Mitosis After Myocardial Infarction” by Robert D. Hume, Palpant, Paul Bannon and Sean Lal, 4th December 2025, published in Circulation Research. DOI: 10.1161/CIRCRESAHA.125.327486
