গব্য গবেষনার হিসাবনিকাশ 

গব্য গবেষনার হিসাবনিকাশ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৩ জুন, ২০২৬

ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ (DST) ২০২০ সাল নাগাদ SUTRA-PIC (Scientific Utilization through Research Augmentation–Prime Products from Indigenous Cows) নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল দেশীয় গরু এবং গরুর থেকে পাওয়া বিভিন্ন উপাদান, যেমন- গোবর, গোমূত্র, দুধ ও পঞ্চগব্য—নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা। এই প্রকল্পের জন্য মোট ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ছয় বছর পর এখন সেই গবেষণাগুলোর কিছু ফলাফল ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হতে শুরু করেছে।

এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়, যার মধ্যে চারটি পরিচালনা করেছে বিভিন্ন আইআইটি/ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলোজি। গবেষণার বিষয় ছিল গোমূত্রের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য, গোবরের পরিবেশগত ব্যবহার, পঞ্চগব্যের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগুণ এবং শিল্পক্ষেত্রে গরুর থেকে উৎপাদিত উপাদানের প্রয়োগ।

আইআইটি-বিএইচইউর অধ্যাপক অভিষেক এস.ধবলের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় বিভিন্ন জাতের গরুর গোমূত্রের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আটটি জাতের গরুর মূত্রে উপস্থিত বিভিন্ন যৌগ শনাক্ত করেন। সেখানে ফেনল, ক্রেসল ও এস্টারের মতো শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিকের পাশাপাশি জাইলিন ও ফর্মামাইডের মতো সম্ভাব্য বিষাক্ত যৌগও পাওয়া যায়। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এসব উপাদানের শিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে ব্যবহারিক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গোমূত্র পান করলে এসব বিষাক্ত উপাদান মানবস্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে গবেষণাটি কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

অন্যদিকে আইআইটি (আইএসএম) ধানবাদের গবেষকেরা গোবর থেকে তৈরি কার্বনসমৃদ্ধ পদার্থ ব্যবহার করে দূষিত জলের বিষাক্ত ক্রোমিয়াম অপসারণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, গোবর-ভিত্তিক শোষক পদার্থ জলের দূষক আটকে রাখতে পারে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দূষক শোষণের পর সেই উপাদানকে শক্তি সঞ্চয়কারী যন্ত্রের ইলেকট্রোড/তড়িদ্বার হিসেবেও পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব। গবেষকেরা এটিকে বর্জ্য পুনরুদ্ধার ও সবুজ প্রযুক্তির একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আইআইটি কানপুরের অধ্যাপক কল্লোল মণ্ডলের গবেষণায় দেখা গেছে, গরুর গোবর থেকে তৈরি নির্যাস ইস্পাতের ক্ষয়/কোরোসান কমাতে কার্যকর হতে পারে। পরীক্ষাগারে পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, গোবরের নির্দিষ্ট রাসায়নিক যৌগ ধাতুর উপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা মরিচা পড়ার গতি কমিয়ে দেয়। ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া পঞ্চগব্য বা গরুর দুধ, দই, ঘি, মূত্র ও গোবরের মিশ্রণ নিয়ে গবেষণাও চলছে। আইআইটি-বিএইচইউর একটি প্রকল্পে এর সম্ভাব্য জীবাণুরোধী ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। গবেষণাটি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে গবেষকেরা দাবি করছেন যে সংগৃহীত তথ্য বৈজ্ঞানিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী।

SUTRA-PIC কর্মসূচি শুরু হওয়ার সময় অনেক বিজ্ঞানী এর সমালোচনা করেছিলেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে এটি যে যে গবেষণা করবে সেগুলোর ভিত্তি একেবারেই দুর্বল হবে। তবে সংশ্লিষ্ট গবেষকদের দাবি, তারা প্রচলিত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড মেনেই কাজ করেছেন এবং ঐতিহ্যগত বিশ্বাসগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যাচাই করার চেষ্টা করেছেন। ছয় বছর পর প্রকাশিত গবেষণাগুলো দেখে যা বোঝা যাচ্ছে , গো-উৎপাদিত উপাদানগুলোর কিছু সম্ভাব্য শিল্প ও পরিবেশগত ব্যবহার থাকতে পারে, যদিও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনেক দাবির পক্ষে এখনও আরও কঠোর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।

 

সূত্রঃ Modi govt allocated Rs 98 cr for ‘cowpathy’ research in 2020. IIT papers are now out

IIT researchers have studied panchgavya, gau mutra, and cow dung during six years of research funded by the government’s SUTRA-PIC programme. Here’s what they have found so far.

Akanksha Mishra 13th June, 2026 09:03 am IST, published in the July 2025 edition of the journal Applied Biochemistry and Biotechnology.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × five =