ডাইনোসর দুনিয়ার অন্যতম বিতর্কিত প্রাণী স্পিনোসরাস। এরা শুধু নদী বা জলাশয়ের ধারে শিকার করত না,বরং এদের জীবনের বেশির ভাগ সময়ই জলের নীচে কাটাত। প্রায় ১১ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে ৯ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে বর্তমান উত্তর আফ্রিকায় বসবাসকারী এই বিশাল ডাইনোসরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক। কেউ মনে করেন, এটি সিল বা পেঙ্গুইনের মতো জলে ডুব দিয়ে শিকার করত। আবার অন্যদের মতামত, আধুনিক বকের মতো জলের ধারে হেঁটে হেঁটে এরা শিকার ধরত হয়তো। গবেষকেরা আধুনিক ও বিলুপ্ত প্রাণীর হাড়ের গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অনুপাত, ছবি, সিটি স্ক্যান ও ১১ হাজারেরও বেশি নতুন পরিমাপ বিশ্লেষণ করেছেন। সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে মেশিন লার্নিং এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমান শনাক্ত করবার জন্য তৈরি একটি পুরনো পরিসংখ্যান পদ্ধতি। ফল? স্পিনোসরাসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জলনির্ভর জীবনযাপনেরই জোরালো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এটি সম্ভবত দীর্ঘ সময় জলের নীচে ডুবে থেকে শিকার করত। তবে সব জলজ সরীসৃপের কাহিনী এক নয়। প্রায় ২৯ থেকে ২৭ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে বসবাসকারী ছোট সামুদ্রিক সরীসৃপ মেসোসর-এর হাড়ের গঠন বলছে, তারা পুরোপুরি জলজ ছিল না। বরং আধুনিক কুমির বা প্ল্যাটিপাসের মতো জল ও স্থল দু জায়গাতেই এরা ছিল স্বচ্ছন্দ। তাদের সামনের পায়ের গঠন থেকে, গবেষকেরা ৯০ শতাংশের বেশি নির্ভুলতায় অনুমান করতে পেরেছেন কোনও প্রাণীর পা সাঁতারের উপযোগী ফ্লিপারে পরিণত হয়েছিল কি না এবং সে কতটা জলনির্ভর ছিল। জলজ জীবনে ফিরে যাওয়া বিভিন্ন প্রাণী গোষ্ঠীর স্বাধীনভাবে প্রায় একই ধরনের বৈশিষ্ট্য গড়ে ওঠে, যেমন ফ্লিপার ও উন্নত সাঁতারের ক্ষমতা। বিবর্তনের এই একই পথ ধরে আলাদা আলাদা প্রাণীর এগিয়ে যাওয়াকে বলে অভিসারী বিবর্তন। এই গবেষণা ভবিষ্যতে শুধু জলজ প্রাণী নয়, মানুষের দুই পায়ে হাঁটা বা ডাইনোসর থেকে পাখির উড়তে শেখার মতো বিবর্তনীয় পরিবর্তনও বুঝতে সাহায্য করবে, আশা করা যায়।
সূত্র: “Limb proportions predict aquatic habits and soft-tissue flippers in extinct amniotes” by Caleb M. Gordon, Lisa S. Freisem, Christopher T. Griffin, Jacques A. Gauthier and Bhart-Anjan S. Bhullar, 20 November 2025, Current Biology.
