গুবরে পোকার আদলে ক্ষুদে রোবট 

গুবরে পোকার আদলে ক্ষুদে রোবট 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৪ নভেম্বর, ২০২৬

বিটলবট নামক এক ক্ষুদ্র, নমনীয় রোবট বানালেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ কোরিয়ার কেইস্ট , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি /ক্যালটেক এবং সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এটি একযোগে তৈরি করেছেন। এই ক্ষুদ্র রোবটটি জীবজগতের চলন ও নমনীয়তাকে প্রযুক্তিতে রূপান্তরের কাজে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। গুবরে পোকার চলন ও শারীরিক গঠন থেকে অনুপ্রাণিত এই রোবটটি হাঁটতে, দিক পরিবর্তন করতে এবং ছোট বস্তু আঁকড়ে ধরতে পারে।

বিটলবটের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তিতে তৈরি কৃত্রিম পেশি। এগুলি তৈরি হয়েছে ‘লিকুইড ক্রিস্টাল ইলাস্টোমার’ (LCE) নামের তাপসংবেদী পদার্থ দিয়ে। বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে উত্তপ্ত হলে এই পদার্থ সংকুচিত হয়। সেই সংকোচনকে কাজে লাগিয়েই রোবটের পা নড়াচড়া করে এবং গুবরে পোকার চোয়ালের আদলে তৈরি নমনীয় যন্ত্রাংশটি ছোট জিনিস আঁকড়ে ধরে।

রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় মানুষের আঙুলে পরানো একটি নমনীয় সেন্সর প্যাচের সাহায্যে। আঙুলের নড়াচড়া শনাক্ত করে এই প্যাচ সেগুলিকে নির্দেশে রূপান্তরিত করে। ফলে চালক আঙুলের ইশারায় রোবটকে সামনে এগোনো, বাঁ দিকে বা ডান দিকে ঘোরা এবং কোনও জিনিস ধরার নির্দেশ দিতে পারেন।

নির্দেশ গ্রহণের পাশাপাশি, বিটলবট চালকের কাছে তথ্যও পাঠাতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত ক্যামেরা ও চাপসংবেদী সেন্সর পরিবেশের ছবি এবং বস্তু স্পর্শ করার অনুভূতি-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে পাঠায়। ফলে রোবট ও অপারেটরের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ এবং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।

পরীক্ষাগারে প্রদর্শনের সময় বিটলবটকে বিভিন্ন বাধা এড়িয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগোতে, ছোট বস্তু তুলে নিতে এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করতে দেখা গেছে।

গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সংকীর্ণ ও দুর্গম জায়গা পরীক্ষা করা কিংবা মানুষের নাগালের বাইরে থাকা ছোট বস্তু উদ্ধার করার কাজে এই ধরনের ক্ষুদ্র রোবট ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে এর চলার গতি, শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে।

 

সূত্র: Korea Advanced Institute of Science and Technology – KAIST

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =