গ্লাস চাইল্ড সিনড্রোম

গ্লাস চাইল্ড সিনড্রোম

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২ নভেম্বর, ২০২৬

যেসব পরিবারে একাধিক সন্তান থাকে তাদের মধ্যে একজন কেউ থাকবেই যে কিনা একটু বেশিই চুপচাপ। এতোটাই শান্ত ও চাপা স্বভাবের যে, মা-বাবার কাছে কোনো প্রকার বায়না করে না, নিজের পড়ালেখা নিজেই মন দিয়ে করে, আবার কোথাও যদি কোনো সমস্যা হয়, চেষ্টা করে মা-বাবাকে বিরক্ত না করে নিজের সমস্যা নিজেই মিটিয়ে নেওয়ার। এটা হয় সাধারণত দুই ভাইবোনের মধ্যে কোনও একজন যদি শারীরিক, মানসিক বা আচরণগত সমস্যার কারণে বেশি যত্ন ও মনোযোগ পায়। তখন অন্য সন্তানটি অভিভাবকের অজান্তেই উপেক্ষিত থেকে যায়। অভিভাবকেরা কিন্তু এদের খুব স্বাবলম্বী ও বুঝদার বলে মনে করেন। এক কথায় বলতে গেলে লক্ষ্মীমন্ত সন্তান। এতে অভিভাবকদের একটু স্বস্তি হয়। কিন্তু মনোবিদদের মতে এই লক্ষ্মীমন্ত বাচ্চারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। অথচ, মা-বাবারা যে তাদের খুব সজ্ঞানে অবহেলা করে, বিষয়টা সেরকম নয়। তাঁর যেটাকে আপাত স্বাভাবিকতা মনে করেন, তার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে চরম একাকিত্ব, একরাশ অভিমান ও অবহেলার অনুভূতি।

পরিবারের যে সন্তানটি অন্য ভাই বা বোনের বিশেষ চাহিদার কারণে নিজেকে উপেক্ষিত মনে করে, তাকে বলা হয় ‘গ্লাস চাইল্ড’ এবং তার অভিজ্ঞতাকেই বলা হয় ‘গ্লাস চাইল্ড সিনড্রোম’ । এটি কোনও স্বীকৃত চিকিৎসাবিষয়ক রোগনির্ণয় নয়। পরিবারের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে— এই আশঙ্কায় শিশুটি নিজের আবেগ ও সমস্যার কথা প্রকাশ করা থেকেও বিরত থাকতে পারে। ফলে তার নীরবতাকে অভিভাবকেরা ভুল করে স্বাবলম্বিতা বা ভালো থাকার লক্ষণ বলে ধরে নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও শিশু অভিযোগ করছে না বলেই তার মনোযোগ বা সাহায্যের প্রয়োজন নেই, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। প্রতিটি সন্তানের সঙ্গে আলাদাভাবে সময় কাটানো, তার কথা মন দিয়ে শোনা এবং অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে তার সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তাকে বোঝাতে হবে, সব সময় মানিয়ে চলা বা নিজের সমস্যার সমাধান নিজেকেই করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

সূত্রঃ Glass Child Syndrome: Always The ‘Easy’ Child? How Parents Can Overlook A Sibling Without Realising It, October 21, 2026, 19:44 IST.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × one =