চোখের নিজস্ব ‘সাফাই ব্যবস্থা’

চোখের নিজস্ব ‘সাফাই ব্যবস্থা’

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

চোখের রয়েছে নিজস্ব ‘সাফাই ব্যবস্থা’! সম্প্রতি কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা চোখের পিছনে তরল ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার এক নতুন পথের সন্ধান পেয়েছেন। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে গ্লুকোমা, বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন-সহ দৃষ্টিশক্তি নাশক একাধিক রোগের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারে। চোখের পিছনে থাকে রেটিনা। আলোকে স্নায়ুসংকেতে রূপান্তরিত করে মস্তিষ্কে পাঠানোই তার কাজ। এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি খরচ হয়, তৈরি হয় নানা বর্জ্য পদার্থও। সেগুলি ঠিকমতো বেরোতে না পারলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু চোখের এই অংশ কীভাবে নিজেকে পরিষ্কার রাখে, তা এতদিন স্পষ্ট ছিল না। নতুন এই নিষ্কাশন পথের নাম দেওয়া হয়েছে ‘পোস্টেরিয়র অকুলার লিম্ফ্যাটিক আউটফ্লো’ বা সংক্ষেপে ‘পোলো’ (POLO)। ইঁদুরের চোখে বিশেষ আলোকচিহ্নিত অণু প্রবেশ করিয়ে এমআরআই ও উন্নত চিত্রগ্রহণ প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁরা তরলের গতিপথ অনুসরণ করেন। দেখা যায়, রেটিনার নীচে রক্তনালিসমৃদ্ধ কোরয়েড স্তরে রয়েছে সূক্ষ্ম লসিকানালি। সেই পথ দিয়ে চোখের পিছনের তরল আশপাশের কলা পেরিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যায় কাছের লসিকাগ্রন্থিতে। অর্থাৎ, চোখের বর্জ্য নিষ্কাশনের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে শরীরের লসিকাতন্ত্রের। শত শত বছর বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, চোখে শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো লসিকানির্ভর নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ২০০৯ সালে চোখের সামনের অংশে এমন একটি পথের সন্ধান মিললেও পিছনের অংশ এতদিন রহস্যই ছিল। গবেষক নীরু গুপ্তার মতে, “এই আবিষ্কার চোখের রোগ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে পারে। ভবিষ্যতে এই নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে ক্ষতিকর পদার্থ জমা আটকানো কিংবা চোখের গভীরে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার নতুন পদ্ধতি তৈরি হতে পারে”। তবে গবেষণাটি এখনও ইঁদুরের উপর সীমাবদ্ধ। মানুষের চোখেও এই ব্যবস্থা একইভাবে কাজ করে কি না, তা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

 

সূত্র:

Identification and Mapping of a Posterior Ocular Lymphatic Outflow (POLO) Pathway Through Choroidal Lymphatics. Translational Vision Science, 2026;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =