জলবায়ু সম্পর্কে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়লে জনসমর্থন দ্রুত কমে যেতে পারে, এমনটাই বলছে নতুন গবেষণা। ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতে স্বভাবতই দুর্বল হয়ে পড়ে পরিবেশ রক্ষার নীতি। আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের গবেষক কাতসিয়ারিনা বাহামাজাভা এবং আইলাভিটা ফাউন্ডেশনের স্ট্যানলি রেজনিক একটি অর্থনৈতিক মডেলের সাহায্যে ৩০০ বছরের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, কার্বন কর নির্ধারণে সরকার ও সাধারণ ভোটারদের সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য বোঝা। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপর এই কর বসানো হয়, যাতে দূষণ কমানো যায়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ভুয়ো তথ্যের প্রভাব না থাকলে প্রথম ৫০ বছরে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রতি টন কার্বন ডাই-অক্সাইডে গড় কর দাঁড়ায় ২৫.৭০ ডলার। সেখানে সরকারের নির্ধারিত কর মাত্র ১৮.৪০ ডলার। ভোটারদের সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ উষ্ণতা বৃদ্ধি সীমাবদ্ধ থাকে ৩.১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সরকারের ক্ষেত্রে তা পৌঁছয় ৩.৬৫ ডিগ্রিতে। বিপত্তি ঘটে ভুল তথ্য ছড়ালে। গবেষকদের মডেলে জনসংখ্যাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় : যাঁরা জলবায়ুর ক্ষতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানেন এবং যাঁরা ভুল ধারণা পোষণ করেন। দেখা যায়, ভুল তথ্যের প্রভাবে সচেতন ভোটারের সংখ্যা ৫০ শতাংশের নীচে নামলেই কঠোর জলবায়ু নীতির সমর্থন দ্রুত কমে যায়। প্রথম ৩০ বছর ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর পরিস্থিতিতে ভোটারদের নির্ধারিত গড় কার্বন কর ২৫.৭০ ডলার থেকে নেমে আসে মাত্র ১০ ডলারে। আরও দীর্ঘস্থায়ী অপপ্রচারের পরিস্থিতির মডেলে পৃথিবীর সর্বোচ্চ উষ্ণতা বৃদ্ধি ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যায়। তবে জলবায়ু শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুয়ো তথ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই সামলানো সম্ভব বলে ইঙ্গিত দিয়েছে গবেষণা। তবে মানুষের রাজনৈতিক মতামতও মডেলের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। গবেষণার মূল বার্তা স্পষ্ট, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু কঠোর আইন যথেষ্ট নয়। সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াও সমান জরুরি। কারণ, ভুল তথ্য শুধু মানুষের ধারণা বদলায় না, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে।
সূত্র: Climate disinformation, belief distortions, and the timing of carbon taxes: A policy analysis; Oct ; 2026
