জিপিএস ছাড়াই মহাকাশে পথ সন্ধান 

জিপিএস ছাড়াই মহাকাশে পথ সন্ধান 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মহাকাশে পথ হারালে এবার আর পৃথিবীর জিপিএস-এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে না। NASA-এর স্টার্লিং মিশনে পরীক্ষিত নতুন ফ্যালকন প্রযুক্তি দেখিয়েছে, মহাকাশযান নিজের চারপাশের উপগ্রহ ও মহাকাশের আবর্জনাকেই চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের অবস্থান ও কক্ষপথ নির্ধারণ করতে পারে।

পৃথিবীর কাছাকাছি কক্ষপথে থাকা উপগ্রহগুলোর জন্য জিপিএস একটা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশক ব্যবস্থা। কিন্তু চাঁদের আশপাশ বা আরও দূরে মহাকাশে জিপিএস সংকেত দুর্বল হয়ে যায় বা একেবারেই পাওয়া যায় না। ভবিষ্যতের চন্দ্র, মঙ্গল ও গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য তাই এমন একটি নেভিগেশন ব্যবস্থা দরকার, যা পৃথিবীর ওপর কম নির্ভরশীল। ফ্যালকন সেই পথেই এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি? স্টার্লিং-এর ক্যামেরা মহাকাশে থাকা উজ্জ্বল বস্তু পর্যবেক্ষণ করে—যেমন অন্য মহাকাশযান ও মহাকাশের বর্জ্য । এরপর সেই দৃশ্যমান বস্তুগুলোকে আগে থেকে সংরক্ষিত মহাকাশের বস্তুর ক্যাটালগের সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করে। পরিচিত বস্তুগুলোর অবস্থানকে নির্দেশক বিন্দু হিসেবে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিটি হিসাব করে স্টার্লিং ঠিক কোথায় এবং কোন কক্ষপথে রয়েছে।

তবে ফ্যালকন-এর কাজ শুধু নিজের অবস্থান খুঁজে বের করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। পরীক্ষায় স্টার্লিং-এর কম্পিউটারে প্রায় ২০ হাজার মহাকাশ-বস্তুর তথ্য ও পূর্বানুমিত কক্ষপথের হিসাব ভরে দেওয়া হয়েছিল। ক্যামেরায় পাওয়া নতুন তথ্যের সঙ্গে সেই পুরোনো হিসাব মিলিয়ে ফ্যালকন অন্য বস্তুগুলোর কক্ষপথও সংশোধন করেছে।

এছাড়াও মাত্র তিন দিনে ২০০টিরও বেশি মহাজাগতিক বস্তুর কক্ষপথের তথ্য সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও নির্ভুল করে তুলেছে সিস্টেমটি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মাটিতে থাকা কোনো অপারেটরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়নি।

ফ্যালকন-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রযুক্তিগত উৎস। গবেষণাটি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্মল স্যাট প্রযুক্তি প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছিল। পরে EraDrive নামে বাণিজ্যিক প্রযুক্তিতে রূপ নিতে শুরু করে। স্টার্লিং-এর চারটি মহাকাশযান ভবিষ্যতে একে অপরের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ-তথ্য ভাগ করে সম্মিলিতভাবে নিজেদের অবস্থান আরও নির্ভুল করার পরীক্ষা চালাবে।

এর গুরুত্ব শুধু দিকনির্দেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে চন্দ্র মিশন, দূরবর্তী বৈজ্ঞানিক অভিযান কিংবা মঙ্গল অভিযানে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মহাকাশে আবর্জনা বৃদ্ধির কারণে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানো, মহাকাশযানের গতিবিধি নজরে রাখা এবং মহাকাশে যানজট সামলানোকে আরও কার্যকর করতেও এটি সাহায্য করতে পারে।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে মহাকাশযানের স্বাধীনতায়। একাধিক উপগ্রহ একসঙ্গে ভবিষ্যতে স্টার্লিং-এর চারটি মহাকাশযান থেকে

পর্যবেক্ষণের তথ্য ভাগ করে নিয়ে সম্মিলিতভাবে অবস্থান নির্ধারণের পরীক্ষাও চালাবে।

 

অর্থাৎ, NASA এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে যেখানে মহাকাশযানকে পথ দেখাতে মহাকাশে অবস্থিত বস্তুগুলোই হয়ে উঠবে মূল দিকনির্দেশক।

 

 

 

সূত্র: https://www.sciencedaily.com/releases/2026/08/260826055450.htm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − three =